TMC

দুই দলের জন্য আলাদা নাম এবং প্রতীক ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন

রাজ্য

মুছে গেলো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম। দুই শিবিরকে আলাদা নাম এবং প্রতীক দিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের কাছে দুই শিবিরের পক্ষ থেকেই আলাদা দলের নাম এবং প্রতীকের আবেদন করা হয়েছিল। বিকল্প নাম এবং প্রতীকও জমা দেওয়া হয়েছিল দুই শিবিরের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মমতা ব্যানার্জি শিবিরের দলের নাম হবে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। দলের প্রতীক ফুটবল পায়ে ফুটবলার। অপর দিকে ঋতব্রত ব্যানার্জিদের শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীক খাম।
এই নাম এবং প্রতীক নিয়ে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনে দুই দল প্রতিদ্বন্দিতা করবে। 

মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কল্যাণ ব্যানার্জি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এই নাম এবং প্রতীক বন্টন সাময়িক। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দলের নাম এবং প্রতীক দুই ফ্রিজ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প নাম এবং প্রতীক কমিশনের কাছে জমা করে তৃণমূলের দুই পক্ষই। ঋতব্রত ব্যানার্জিদের পক্ষ থেকে দুটি নাম কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয় যথাক্রমে জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসাবে তিনটি বিকল্প পাঠানো হয় – টর্চ, খাম এবং ব্ল্যাক বোর্ড।
অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকেও পাঠানো হয় নাম। মমতা ব্যানার্জির অংশের পক্ষ থেকে যেই নাম গুলো পাঠানো হয় তা হলো সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস, সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাট তৃণমূল দু’টি বিকল্প প্রতীকের কথাও কমিশনকে জানায়। তার একটি ছিল ফুটবল পায়ে ফুটবলার। অপরটি হল ক্রিকেট ব্যাট।
শুক্রবারের মধ্যে দলের নাম এবং প্রতীকের তিনটি করে বিকল্প দুই শিবিরকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল কমিশনের পক্ষ থেকে। সেইসঙ্গে দলের নাম এবং প্রতীক দুয়েরই ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। 
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুগামী অংশ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির অংশের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
এদিন বেলা ১১ টার মধ্যে বিকল্প হিসেবে দলের তিনটি নাম এবং তিনটি প্রতীক জমা দেওয়ার কথা ছিল। গতকাল রাতেই জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর নাম এবং প্রতীক পাঠিয়েছে ঋতব্রতরা। অন্যদিকে কালীঘাটের পক্ষ থেকে গতকাল রাতেই মেইল করা হয়েছে নাম এবং প্রতীক। 
সামনেই পশ্চিমবঙ্গের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। দুই অংশই আলাদা আলাদা করে প্রার্থীপদে নাম জমা দিয়েছে। ফলে কে তৃণমূলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে তা নির্ধারণ করা জরুরি ছিল। কমিশনের কাছে দুই অংশই দাবি জানিয়েছিল। তবে দুপক্ষেরই দাবি খারিজ করেছে কমিশন। 
সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, তৃণমূলের বিভিন্ন অংশের কথা জানা যাচ্ছে। কেউ কালিঘাট পন্থী, কেউ নবান্ন পন্থী, কেউ দিল্লি পন্থী। কিন্তু ঘটনা হলো বিরোধীদলের ভূমিকায় তৃণমূলের কেউ নেই। আরএসএস বরাবর তৃণমূলকে সহায়তা দিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল বিজেপিকে সাবালক হতে সাহায্য করেছে। আরএসএসেরই নির্দেশে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সরে গিয়েছে তৃণমূল।

Comments :0

Login to leave a comment