SFI School

কমছে ছাত্র, ভাঙা শৌচাগার, সমস্যা ক্লাসঘরে: স্কুলে স্কুলে গিয়ে তথ্য নিচ্ছে এসএফআই

রাজ্য জেলা

হাওড়ার বালি-জগাছা অঞ্চলে স্কুলে স্কুলে এসএফআই কর্মীরা।

সামাজিক নজরদারিতে থাকবে স্কুল। দেশে এবং রাজ্যে স্কুল উঠে যাচ্ছে। সে সময়েই স্কুলে স্কুলে পৌঁছাচ্ছে এসএফআই।
‘স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও’ কর্মসূচিতে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে যাওয়ার ডাক দিয়েছে সংগঠন। রাজ্যে ৭০০-র বেশি স্কুলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। 
রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ৮ হাজারের বেশি স্কুল। দেশে ৮০ হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে। 
এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী বলেছেন, ‘‘১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সাতশোর বেশি স্কুলে যাবে এসএফআই। সঙ্গে থাকবে ছাত্র-ছাত্রীরা। থাকবেন শিক্ষক অভিভাবকরাও। সেই কাজ শুরু হয়েছে। 
তাঁর কথায়, মূলত কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, ল্যাবরেটরি, শৌচাগার, ক্লাসরুমের অবস্থা এবং মিড ডে মিল ঠিকমতো ছাত্রছাত্রীরা পাচ্ছে কিনা সেই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভিত্তিতে ডিআই অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হবে। তারপর যাওয়া হবে জেলা শাসকের দপ্তরে। সমস্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর অভিযানের পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।’’ 
হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো কয়েকটি জেলা এর মধ্যেই নেমে পড়েছে। হাওড়ায় বালি জগাছা উত্তর আঞ্চলিক কমিটির আনন্দনগর হাই স্কুল এবং নপট্টি হাই স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন এসএফআই নেতৃবৃন্দ। এসএফআই নেত্রী স্বাগতিকা সেন জানাচ্ছেন যে ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সমস্যা রয়েছে পরিকাঠামোর। আরেকদিকে স্কুল তুলে দিয়ে ‘মার্জার’ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষকরা। স্কুল বাঁচাতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। সাড়াও মিলছে।   
‘স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও’ স্লোগানে দীর্ঘ আন্দোলন রাজ্যে চালাচ্ছে এসএফআই। সারা দেশেও একই অভিমুখে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। 
এসএফআই হাওড়া জেলা সভাপতি বিপাশা সাহা জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে পঞ্চাশের বেশি স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 
তিনি বলছেন, ‘‘নতুন সরকারের সময়েও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আগের সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল স্কুলগুলিতে সঠিক ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত নেই। বাথরুম ভাঙা, স্কুল চত্বর অপরিষ্কার। এখনও একই অবস্থা রয়েছে। হাওড়ার একটি স্কুলে দেখা গিয়েছে ৪৬ জন ছাত্রীর জন্য ১১ জন শিক্ষক। কারণ ছাত্র সংখ্যা কমে গিয়েছে আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায়। আবার অন্য স্কুলে বেশি সংখ্যক ছাত্রের জন্য শিক্ষকের অভাব রয়েছে। 
উলুবেড়িয়ার একটি স্কুলে গিয়ে এসএফআই দেখেছে গোটা শৌচাগার ভাঙা। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল চত্বরে আগাছা জন্মেছে। পরিকাঠামগত উন্নয়নের জন্য সরকারের থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কথা জানাচ্ছেন অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা। অভিভাবক প্রাক্তনীদের থেকে সাহায্য নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে চলছে স্কুল। 
বিপাশা জানিয়েছেন মেয়েদের স্কুলের ক্ষেত্রে প্রতি স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন ও মেয়েদের জন্য আত্মরক্ষা শিবির যাতে শিক্ষা দপ্তর করে তার তার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment