Swasthya Sathi

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সার, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ভোগান্তি উত্তরবঙ্গের নার্সিংহোমগুলিতে

জেলা

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস আর বাস্তবতার মাঝে আকাশ-পাতাল ফারাক! স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এখনই বন্ধ হচ্ছে না। আরও দু- তিন মাস চলবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী স্পষ্ট ছিল স্বাস্থ্য সাথী, আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা তিনটিই এক সঙ্গে চলবে। উপভোক্তারা যখন রাজ্যে লাহু নয়া দুই বিমা প্রকল্পে স্থানান্তরিত হবেন এবং যখন পরিষেবায় কোন অসুবিধে হবে না তখনই স্বাস্থ্যসাথী ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে। বাস্তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি কাজেই আসছে না উত্তরবঙ্গের নার্সিংহোমগুলিতে! তাঁরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে গেলেও পরিষেবা দিতে টালবাহনা শুরু করছে। অথচ কোন নার্সিংহোমেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা মিলবে না এরকম কোন নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি জারি হয় নি। দেখানো হচ্ছে না স্বাস্থ্যসাথী বন্ধের কোন সরকারি নোটিশও! অথচ বাস্তব এটাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এখন অচল। আর এর ফলে শিকেয় উঠেছে কেমো-ডায়ালিসস। বিপদে পড়েছেন মরনাপন্ন রোগীর পরিজনেরা।
উল্লেখ্য,  গত মঙ্গলবার কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে ৪৪ বছরের এক মহিলাকে হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা নিয়ে এলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আয়ুষ্মান কার্ড দেখানোর পরেও বলা হয় তাদের নির্ধারিত কোটা ফুরিয়ে গেছে। ওই কার্ডে চিকিৎসা মিলবে না। ফলে নিজেদের টাকায় চিকিৎসা শুরু করায় পরিবার।বুধবার ওই মহিলা রোগীর মৃত্যু হয়।পরিবারকে ওষুধ বাবদ ২৬৬০০ টাকা এবং চিকিৎসা বাবদ ৩২ হাজার টাকা মিটিয়ে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়  পরিবারকে। মৃতার ভাই বলেন, ‘‘ যে চলে যাবার সে চলে গেছে এসব নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাই না। তবে বুঝেই উঠতে পারছি না এসব কার্ডের আদৌ কি গুরুত্ব আছে?’’
কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমের রিসিপশনে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাশের অন্য কাউন্টারে যেতে বলা হল। সেখানে প্রসঙ্গ তুলতেই বলা হল, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকলে নিয়ে আসুন। ব্যবস্থা হবে। আবার অনেকেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড লক হয়ে গেছে। তাদের আয়ুষ্মান ভারত  বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা চালুই হয় নি। এই মুহুর্তে কোচবিহার জেলায় গরীব মানুষদের যাদের হাতে শুধু স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আছে তাঁরা সংকটজনক রোগী নিয়ে নার্সিংহোমে এসে বিপাকে পড়ছেন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। যাদের কেমোথেরাপি চলছে কিংবা ডায়ালিসিস চলছে তাঁরা ঘটিবাটি বেচে কোনমতে রোগীর চিকিৎসা করাচ্ছেন।
পাশের জেলা আলিপুরদিয়ারেও একই ছবি। সেখানকার নার্সিংহোমেও বৃহস্পতিবার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে এই মুহুর্তে চিকিৎসা মিলবে না। কেউ কেউ আবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার কথা বলতেই এমন ভাবে ডেট দিচ্ছেন যাতে রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অপারেশনের রোগীর পরিবারের সদস্যরা অপারেশন ডেট রিশিডিউল করিয়ে রোগী নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। টাকার যোগাড় করে ফের অপারেশনের জন্য আসবেন।
দক্ষিন দিনাজপুরের বালুরঘাট, গঙ্গারামপুরেও অনেক নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এলাউ করছেন না। রোগীর পরিবারের সদস্যরা ছুটছেন আয়ুষ্মান ভারত কিংবা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা কার্ড করাতে। কোচবিহারের অনিমা প্রামানিকের স্বামী রুদ্র প্রামানিকের ডায়ালিসিস চলছিল। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কাজ করছে না। নার্সিংহোমের কথায় আয়ুষ্মান ভারতের আবেদন করলাম। সেটাও হয় নি। একজন বললেন, ফর্ম ফিলাপ করে জেলাশাসকের অফিসে জমা দিতে। তবে মিলতে পারে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা কার্ড। এখন আমি স্বামীকে দেখবো নাকি ছুটবো অফিসে আর সাইবার কাফেতে। উপায় না পেয়ে গয়না বেচে ডায়ালিসিস করাচ্ছি। রোগী ভোগান্তি কমাতে কবে উদ্যোগী হবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেটাই এখন দেখার।

Comments :0

Login to leave a comment