Mathabhanga Municipality

আবর্জনা নিয়েই মাথাভাঙা পৌরসভার সাফাই কর্মীদের অবস্থান

জেলা

দু মাস  মেলে নি মজুরি! ক্ষোভে টানা আড়াই ঘণ্টা আবর্জনা নিয়ে অবস্থান -বিক্ষোভ মাথাভাঙা পৌরসভার নির্মল বন্ধুরা। টানা দু’মাসের মজুরি বকেয়া, দাবি সত্বেও মিলছে না ন্যায্য মজুরি, অমিল সামাজিক সুরক্ষাও। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘‘একদিন মানুষ না খেয়ে থাকতে পারেন, দু’দিনও হয়তো কোনওভাবে কাটিয়ে দিতে পারে। অথচ মাসের পর মাস মজুরি নেই। এভাবে চলবে কি করে? অথচ একদিন যদি শহরের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা থমকে যায়, তার প্রভাব পড়ে প্রতিটি নাগরিকের জীবনে। আর সেই বর্জ্য নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা প্রতিদিন করে চলেছি। অথচ আমাদের মজুরি বকেয়া! আজ বাধ্য হয়েই নিজেদের বকেয়া বেতন ও একাধিক দাবিকে সামনে রেখে কার্যত আবর্জনা নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছি মাথাভাঙ্গা পৌরসভা ভবনের সামনে।’’
উল্লেখ্য মাথাভাঙ্গা পৌরসভার ২৭ জন নির্মল বন্ধু বাড়ি বাড়ি থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা আবর্জনা সংগ্রহ  করেন। তারাই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাঁদের অবস্থান-বিক্ষোভ করে। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের মজুরির আশ্বাস দেবার পর তাঁরা আবর্জনাগুলি সরিয়ে নিয়ে যায়।
নির্মল বন্ধুদের দাবি, তাঁরা ডব্লিউবিইউইএস’র( West Bengal Urban Employment Scheme (WBUES) অধীনে কাজ করেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় মাথাভাঙ্গা পৌরসভায় মোট ৩৯ জন নির্মল বন্ধু নথিভুক্ত থাকলেও বর্তমানে নিয়মিত কাজ করছেন ২৭ জন। প্রতিদিন মাত্র ২০০ টাকা হাজিরার ভিত্তিতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করেন।
কর্মীদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে তাঁদের মজুরি বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ, একসময় তিন মাস অন্তর, অর্থাৎ কোয়ার্টারলি ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হতো। পরে তা দ্বিমাসিক এবং পরবর্তীতে মাসিক করার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু মাসিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরেও নিয়মিত বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। শুধু বকেয়া বেতন নয়, মজুরি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিও দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা ভাতা নেই, অবসরকালীন সুবিধা নেই এবং তাঁদের পারিশ্রমিক থেকে ইপিএ-ও কাটা হয় না। বর্তমান দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্মল বন্ধুদের বক্তব্য, তাঁরা প্রতিদিন শহরের বাড়ি বাড়ি থেকে ভেজা ও শুকনো—বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে সচল রাখেন। তাঁদের কাজ একদিন বন্ধ থাকলেও তার প্রভাব সরাসরি শহরের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে পড়তে পারে। এদিন সেই কথাটিই যেন কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তাঁরা। প্রতিদিন যে আবর্জনা তাঁরা নাগরিকদের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেন, সেই আবর্জনাই গাড়ি-ভ্যানসহ পৌরসভা ভবনের সামনে এনে অবস্থানে বসেন তাঁরা। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কর্মীদের বক্তব্য, নিয়মিত বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস মিলেছে। তবে তাঁদের আরও কয়েকটি দাবি এখনও স্পষ্টভাবে সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
শুধু নির্মল বন্ধুরাই নন, মাথাভাঙ্গা শহরের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক অস্থায়ী কর্মীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তার অভিযোগ সামনে এসেছে বুধবার। মাথাভাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় আরও প্রায় ১৭৫ জন কর্মী রয়েছেন, যাঁরা National Vector Borne Diseases Control Programme-এর আওতায় কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ৮৭ জন পুরুষ এবং ৮৮ জন মহিলা। পুরুষ কর্মীরা ভোরবেলা শহরের বিভিন্ন নালা-নর্দমায় জমে থাকা জল ও আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করেন। অন্যদিকে মহিলা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোথাও জল জমে রয়েছে কি না, মশার বংশবিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন। অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ১৭৫ টাকা হাজিরার বিনিময়ে এই কর্মীরাও শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ কোনও উৎসবের আগে কিংবা কোনও রোগের প্রকোপ দেখা দিলে পৌরসভার পক্ষ থেকে যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়, সেখানেও এই কর্মীদের ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নালা বা বাড়ি থেকে সংগৃহীত আবর্জনা সরিয়ে গাড়িতে তুলে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন আরও প্রায় ৫৪ জন কর্মী।এদের ক্ষেত্রেও গত দু’মাসের মজুরি বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে।

Comments :0

Login to leave a comment