আমেরিকার চাপে ইউপিআই লেনদেনে বসেছে মাশুল। জোরালো হয়েছে এই অভিযোগ। অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ব্যাখ্যা হাজির করেছে।
গতকাল, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা এমডিআর বসিয়েছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, সাধারণ ক্রেতার ওপর এই মাশুলের চাপ পড়বে না। কেবল ব্যবসায়ীদের একাংশের থেকে এই টাকা কেটে নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে সাধারণ ক্রেতার ওপর এই শুল্ক চাপাতে না পারে তার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বলা হচ্ছে।
দেশময় উৎসবের মরশুম শুরু মুখে নগদবিহীন লেনদেনে এই মাশুলের প্রভাব যে পড়বে তা নিশ্চিত করছে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অংশ। মাশুলের ভার ক্রেতা সাধারণের ওপর না চাপানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা ঠিক কী, উঠেছে সে প্রশ্নও।
ইউপিআই লেনদেনে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্টস সংস্থা। একটি হিসেবে বলা হয়েছে যে দেশের ইউপিআই বাজারের ৪৮.৯ শতাংশ ফোন পে-র হাতে। এই সংস্থার ৭২ শতাংশ শেয়ার আমেরিকার ওয়ালমার্টের দখলে। ইউপিআই বাজারে গুগল পে’র হাতে ৩৭.৭ শতাংশ। এই সংস্থা পুরোপুরিই আমেরিকার গুগল এলএলসি-র দখলে। ফলে এমডিআর শুল্ক বসানোয় লাভ হবে আমেরিকার মালিকানাধীন দুই সংস্থার। শেয়ার বাজারে তাদের দরও বাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
তুমুল সমালোচনার মুখে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়েছে। বলা হয়েছে, ‘‘কোনও কোনও অংশের বক্তব্য বিদেশি চাপের কারণে এমডিআর মাশুল বসেছে। এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। ভারতে ইউপিআই নীতি স্বাধীনভাবে ঠিক করা হয় স্থায়িত্ব, অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং সুলভ ডিজিটাল পরিমণ্ডল তৈরি করার লক্ষ্যে।’’
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে ১৫ অক্টোবর থেকে। দেশে ডিজিটাল লেনদেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনপিসিআই ফের দাবি করেছে যে সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। আরও বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন হলে মাশুল দিতে হবে না।
বাণিজ্য এবং অর্থ লগ্নি বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তবের বক্তব্য, লেনদেনের সংখ্যার বিচারে মাত্র ৪ শতাংশ ২ হাজার টাকার ওপর। কিন্তু লেনদেনের টাকার অঙ্কের বিচারে প্রায় ৭০ শতাংশই ২ হাজার টাকার বেশি। ইউপিআই লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যের দুই তৃতীয়াংশই ২ হাজার টাকার বেশি।
এই অংশের আশঙ্কা, ০.৪ শতাংশ এমডিআর বসিয়ে যে রাস্তা খোলা হলো ভবিষ্যতে তা আরও চওড়া হবে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বা বাণিজ্যিক লেনদেনে ২ হাজার টাকার নিচেও বসতে পারে শুল্ক।
Foreign Influence UPI Charge
আমেরিকার চাপে মাশুল ইউপিআই লেনদেনে, অভিযোগ খারিজে বিবৃতি অর্থ মন্ত্রকের
×
Comments :0