NBSTC

আগের সরকারের মতোই উদাসীন এই সরকারও, ১০ শতাংশ স্থায়ী কর্মী নিয়ে চলছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা

রাজ্য জেলা

অমিত কুমার দেব


বিগত ১৫বছরের অবহেলার পর বর্তমান রাজ্য সরকারের অবজ্ঞায় এই মুহূর্তে চূড়ান্ত অবনমনের পথে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা। মাত্র ১০ শতাংশ স্থায়ী কর্মচারীর নিয়ে কোনও ক্রমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা। সরকারি অবহেলায় ভেঙে পড়ার মুখে এই পরিবহণ সংস্থার প্রশাসনিক পরিকাঠামো।
বর্তমানে এই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা ৩০২জন স্থায়ী কর্মচারীর পাশাপাশি কর্মরত রয়েছেন ১,৬৬৪ জন কন্ট্রাক্টচুয়াল কর্মী, এজেন্সির নিয়োগ করা কর্মীর সংখ্যা ৪৪৬জন। স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্যে অধিকাংশই একের পর এক অবসর গ্রহণ করায় তীব্র প্রশাসনিক সংকটের মুখোমুখি এই সংস্থা। ডিভিশনাল ম্যানেজারের একাধিক পদ শূন্য থাকলেও এই পদে কোনও স্থায়ী কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না আশ্চর্যজনক ভাবে এই সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এই পদে পুনর্বহাল করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অ্যাকাউন্ট অফিসার, মেকালিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করছে না এই সংস্থা। কার্যত বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গের এই সর্ববৃহৎ পরিবহণ শিল্প। সবকিছু জানা সত্ত্বেও বিগত রাজ্য সরকারের মতো উদাসীন রাজ্যের বর্তমান সরকারও।
  দীর্ঘ প্রায় ১৪বছর যাবত এই সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৮০জন পরিবহণ শ্রমিক। এরা প্রত্যেকেই পোষ্যের চাকরি করছেন। অর্থাৎ এদের বাবা এই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ার কারণে তার জায়গায় এরা এই সংস্থায় চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের স্থায়ীকরণ করা হয়নি। এরা প্রত্যেকেই তাদের স্থায়ীকরণের বিষয় নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তাদেরকে স্থায়ীকরণ করার নির্দেশ দেয় এই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থাকে। কিন্তু এরপরেও তাদের স্থায়ীকরণ না করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা কর্তৃপক্ষ। এই কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত। তাই এদের স্থায়ীকরণ করে সংস্থার একাধিক শূন্যপদে এদের নিয়োগ করা হলে, কিছুটা হলেও কর্মী সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেত এই সংস্থা। কিন্তু এই পথেও হাঁটেনি রাজ্যের সরকার।
  শুধু তাই-ই নয়, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে এই পরিবহন নিগমের বাস চালকদের যেমন বেতন বেড়েছে, ঠিক একই ভাবে কন্ডাক্টরদেরও বেতন বৃদ্ধি করা হবে এবং আগস্ট মাস থেকে এই বর্ধিত বেতন পাবেন তারা। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই বর্ধিত বেতন হাতে পাননি এই সংস্থায় কর্মরত কন্ডাক্টররা বলে অভিযোগ।
 সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বাসের সংখ্যা ৭১২টি। কিন্তু রাস্তায় চলছে ৬১৭টি বাস। পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় সব বাস পথে নামানো যাচ্ছে না। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ জুড়ে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাতেও বাস রুট ছিল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার। কিন্তু বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বেশিরভাগ রুটই তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারেরও এব্যাপারে কোনরকম হেলদোল নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্যের মহিলাদের জন্য বাস ভাড়া ফ্রি করে দেওয়ায় প্রবল অর্থনৈতিক চাপ নেমে এসেছে এই এনবিএসটিসি-র ওপর। ইতিমধ্যে মহিলাদের ফ্রি বাস পরিষেবা দেওয়া বাবদ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থাকে একালীন ১২লক্ষ ৬৫হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। তবে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে পরিবহন নিগম। তাই এই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি করা হয়েছে বলেও খবর।
  উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন সিআইটিইউ অনুমোদিত নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। চলতি মাসের ২৫ তারিখ থেকে ৩০তারিখ পর্যন্ত সংস্থার কোচবিহার, শিলিগুড়ি, রায়গঞ্জ এবং বহরমপুর ডিভিশন সহ বিভিন্ন ডিপোতে অবস্থান-বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচিতে শামিল হবে এই সংগঠন বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম কুন্ডু।

 

Comments :0

Login to leave a comment