China Greenland

অন্য দেশ দেখাবেন না, গ্রিনল্যান্ড দ্বন্দ্বে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি চীনের

আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য অন্য দেশের তৎপরতাকে অজুহাত করা অনুচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এমনই হুঁশিয়ারি দিল চীন। 
গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার তৎপরতাকে যুক্তি খাড়া করেছে আমেরিকা। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এমন যুক্তির কড়া বিরোধিতা করেছে চীন।
এদিকে ডেনমার্ক ফের আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।  
আমেরিকা গ্রিনল্যাণ্ড দখল করলে সেটিই হবে ন্যাটোর সমাপ্তি, এদিন এমনই হুঁশিয়ারি দেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেদেরিকসেন। শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সহ ওই অঞ্চলের বাকি সংসদীয় দলগুলি যৌথভাবে বিবৃতিতে জানায় যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তার জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে।
পাশাপাশি চীন এদিন বলেছে যে আর্কটিক অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই বেজিং তার কার্যকলাপ চালায়। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ওই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে চলাই চীনের মুল উদেশ্যে। 
চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিঙ বলেছেন, আর্কটিকে চীন  আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাজ চালাচ্ছে। 
গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ইউরোপেও। এর আগে ভেনেজুয়েলায় সেনা পাঠিয়ে সেদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছে চীন। ভেনেজুয়েলা আমেরিকার ঘোষিত শত্রু হলেও ডেনমার্কের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে মিত্রতার সম্পর্ক আমেরিকার। কোনও সঙ্গী দেশের কোনও অংশ সেনা অভিযান চালিয়ে দখলের পরিণাম কী হবে তা নিয়ে আমেরিকার মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে।
গ্রিনল্যাণ্ড ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হওয়ায় শর্ত অনুযায়ী ন্যাটোর দায়িত্ব তাকে রক্ষা করার। ডেনমার্ক ও আমেরিকা দু’দেশই ন্যাটো-র সদস্য। যদিও আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী সারা বিশ্বে খবরদারি এবং সামরিক সংঘাতে মদতের জন্য কুখ্যাত। 
মার্কিন সমর প্রশাসন এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড অভিযানের পরিকল্পনায় নেমেছে। ট্রাম্প যুক্তি দিচ্ছেন যে রাশিয়া ও চীনকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আমেরিকার গ্রিনল্যাণ্ড দখল করা প্রয়োজন। 
স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ডের আইনসভার পাঁচ দল এর মধ্যেই যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের প্রতি আমেরিকার এই ঘৃণাদৃষ্টি শেষ হোক’। জানা গিয়েছে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের দূতরা চলতি সপ্তাহেই যেতে পারেন ওয়াশিংটনে।  
কিন্তু মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। ট্রাম্প তাকিয়ে রয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রের দিকে। ট্রাম্প সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

Comments :0

Login to leave a comment