উত্তরপ্রদেশে নিজের স্ত্রী ও মাকে খুন করে তাঁদের মাংস খাওয়ার অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে। কুশিনগর জেলার আহিরাউলি বাজার থানা এলাকার পারসা গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে অভিযুক্ত তার মা ও স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে মৃতদেহ থেকে মাংস ছিঁড়ে খেতে শুরু করে। এমনকি ছাদ থেকে মাংসের টুকরোগুলো ছুঁড়ে ফেলে দেয় অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তকে সিকন্দর গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান পুলিশের।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সিকন্দর গুপ্তর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং মা রুনা দেবী ছাদে বসে ছিলেন। অভিযোগ সেই সময় সিকান্দর মদ্যপ অবস্থায় সেখানে পৌঁছান। তার স্ত্রী মদ্যপানের আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। রাগে সিকান্দর ছাদে পড়ে থাকা একটি পাথরের টুকরো তুলে পিছন থেকে প্রিয়াঙ্কার মাথায় আঘাত করে। তার মা বাধা দিতে গেলে, একই পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। দুজনেই জ্ঞান হারালে তাদের মাথায় ফের আঘাত করে। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে ছাদে তাণ্ডব চালাতে থাকে, আর প্রতিবেশীরা বিষটি জানতেও পারেনি। খবর পেয়ে সিকান্দারের চার বোন গ্রামে পৌঁছায়। তাদের বক্তব্য একমাত্র ভাই হওয়ায় পুরো পরিবার তাকে শুরু থেকেই খুব ভালোবাসত। মা এবং স্ত্রীর দায়িত্ব ছিল সিকান্দারের কাঁধে। বাবার মৃত্যুর পর সিকান্দর কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়েও ফিরে আসেন। বিয়ের চার বছর পরও সন্তান না হওয়া এবং স্থায়ী কোনও কর্মসংস্থান না থাকায় সিকান্দর মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ে। সেই কারণে স্ত্রীর সাথে প্রায় ঝগড়া হতো। তার স্ত্রীও একাধিকবার বাবা বাড়িতে যেতেন, তবুও সিকান্দারের কোনও উন্নতি হয়নি। কিন্তু তারা আশা করেনি যে সে এমন ঘটনা ঘটাবে সিকান্দর। এত নৃশংসভাবে খুন হওয়া মা ও স্ত্রীর মৃতদেহ দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারাই পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীদের সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, বিয়ের ঠিক এক বছর পর সিকান্দারের বাবাও একটি দুর্ঘটনায় মারা যান। তারপর থেকে পরিবারের শামলাতেন সিকান্দার।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের কুশিনগর জেলায় এক যুবক তার স্ত্রী ও মাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সিকান্দার গুপ্তা। মুম্বাইতে শাটারিং শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। মা ও স্ত্রীক খুন করার পর মৃতদের মাংস খাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি পুরো জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তের বোনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সিকান্দারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। স্ত্রী এবং মাকে হত্যার অভিযোগে কারাগারে পাঠায় বিচারক। ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জের ঘটেছে বলে পুলিশের অনুমান। দুটি মৃতদেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
Uttar Pradesh
উত্তর প্রদেশে মা ও স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক
ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়
×
Comments :0