Police shut down blood donation camp

রক্তদাতার হাতে সিরিঞ্জ ফোটানো, শিবির বন্ধ করে দিল পুলিশ!

কলকাতা

 রক্তদাতার হাতে সিরিঞ্জ লাগানো অবস্থাতেই রক্তদান বন্ধ করার নির্দেশ দিল পুলিশ। সিপিআই(এম)’র উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে এই ঘটনা ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন আয়োজক, রক্তদাতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কবি ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা (ব্লাড সেফটি)-কে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
চোরবাগানে পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে গত সোমবার এই শিবিরের আয়োজন করেছিল সিপিআই(এম)’র বালিগঞ্জ-১ এরিয়া কমিটি। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে আগাম ই-মেল করে পার্ক সার্কাসের সৈয়দ আমীর আলি অ্যাভিনিউয়ে শিবিরের কথা জানানো হয়েছিল বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ আগাম কোনও নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়নি। অথচ রক্ত সংগ্রহ শুরু হতেই বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ এসে কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।
রক্ত সংগ্রহের জন্য চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড কালেকশন বাস পৌঁছেছিল। উৎসবের মরশুমে যান চলাচলের কথা বিবেচনা করে বাসটি পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্টে না দাঁড় করিয়ে সংলগ্ন একটি ব্যক্তিগত জমিতে রাখা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ বাসে উঠে রক্তদান বন্ধের নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ।
ততক্ষণে দু’জন রক্তদাতার রক্ত সংগ্রহ করা হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় রক্তদাতার হাতে সিরিঞ্জ লাগিয়ে রক্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময়ই পুলিশ বাধা দেয়। এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
চোরবাগানের ঘটনার পর রক্তের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদান শিবির আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে রক্তের প্রয়োজনের সময়ে এমন একটি মানবিক কর্মসূচি কেন বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুমতি বা অন্য কোনও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সমস্যা থাকলে তা আগাম জানিয়ে সমাধানের সুযোগ দেওয়া যেত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের অভিযোগ, শিবির বন্ধ করার কোনও নির্দিষ্ট কারণ পুলিশ জানায়নি।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কবি ঘোষ জানিয়েছেন, প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। কিন্তু স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা হওয়া উচিত সহযোগীর, বাধা সৃষ্টিকারীর নয়। আইনসম্মতভাবে আয়োজিত রক্তদান শিবির যেন রাজনৈতিক পরিচয় বা অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
সিপিআই(এম)’র কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার বলেন, রাজ্যের ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে। সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে ব্লাড ক্রেডিট কার্ড থাকা সত্ত্বেও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কল্লোল মজুমদার জানান, বুক স্টল চালু রাখার মতোই বাধা অতিক্রম করে রক্তদান শিবিরও ফের সংগঠিত করা হবে।
সিপিআই(এম) নেতা দেবেশ দাস বলেন, চোরবাগান-কাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করেই রক্ত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ বাধা দেয়। স্বাস্থ্য দপ্তরে ফোন করার পর রক্ত সংগ্রহের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।
দলের আর এক নেতা মানজার এহসান দাবি করেন, শিবিরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জমিতে বাস দাঁড় করানো সত্ত্বেও পুলিশ এলাকা ঘিরে রাখে। থানার তরফে স্বাস্থ্য দপ্তরে ফোন করার পর ব্লাড কালেকশন বাস ফিরে যায় বলে জানান তিনি।
উৎসবের মরশুমে রক্তের চাহিদা বাড়ার সময়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানের উদ্যোগে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে। শিবির বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক ভিত্তি কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে দলের কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

Comments :0

Login to leave a comment