Protest Against Eviction

উচ্ছেদের প্রতিবাদে লাল ঝান্ডার মিছিল-ডেপুটেশন পুরুলিয়ায়

জেলা

বুলডোজার চালিয়ে কর্মচ্যুত করা মানুষগুলো সোমবার চড়া রোদ উপেক্ষা করে পুরুলিয়া শহর জুড়ে পথে নামলেন। পরিবারের সদস্যেরাও এদিন শামিল হয়েছিলেন সিআইটিইউ এবং সিপিআই(এম)’র ডাকে মিছিল এবং ডেপুটেশন কর্মসূচিতে। কালকে ভাতের হাঁড়ি কিভাবে বসবে তা কেউ জানেন না, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কিভাবে আসবে সেটাও জানেন না , চিকিৎসা কিভাবে হবে সেটাও তারা বুঝতে পারছেন না। অসহায় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পুরুলিয়া শহরের জেলা কোর্ট এবং সদর হাসপাতাল চত্বর জুড়ে গত কয়েক দিনে বুলডোজার চালিয়ে কয়েকশ দোকানদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েক ঘন্টার নোটিশে মানুষগুলোকে দোকানঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এখনও সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষগুলো বিলাপ করছেন আর বলছেন আমাদের সব হারিয়ে গেছে। পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা না করে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই কয়েকশ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সিআইটিইউ এবং সিপিআই(এম)।
একটা দোকান মানে একটা পরিবারের অন্য সংস্থানের জায়গা। পাশাপাশি সেই দোকানের কর্মচারীরও অন্ন সংস্থান সেই দোকান থেকেই। একরাশ প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা এই সরকার মানুষের পেটে লাথি মেরেছে, লাথি মারছে। শহর জুড়ে উচ্ছেদের নামে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কয়েক পুরুষের ব্যবসা বেআইনি দখলদারের তকমা দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এই সরকারের প্রশাসন। সোমবার  উচ্ছেদ হওয়া দোকানদার এবং তাদের পরিবারের লোকজন লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে পুরুলিয়া শহরের ভগৎ সিং এর স্ট্যাচুর সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন এবং সারা শহর জুড়ে মিছিল পরিক্রমা করার পর শেষ হয় পুরুলিয়া পৌরসভায়। কার্যত এদিন পুরুলিয়া পৌরসভা অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সব হারানো মানুষগুলো বুঝতে পারছেন ওদের পাশে এখন এই লাল ঝান্ডা ছাড়া আর কেউ নেই। উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে পুরুলিয়া পৌরসভার প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক (সদর) কে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিমলেন্দু কোনার, কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, সুশান্ত মাহাতো, সায়ন্তন ঘোষ এবং শামসের আলী সহ উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের ৫ জন প্রতিনিধি। পৌরসভার বাইরে সরকারের এই হঠকারিতা এবং বুলডোজার নীতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়, সিআইটিইউ’র জেলা  সম্পাদক হারাধন ব্যানার্জি সহ কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, নিখিল মুখার্জি, বিনয় রজক, সুপ্রিয়া সেন, পরিমল কুমার। বক্তব্য রাখেন বেশ কয়েকজন উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারও। সভাপতিত্ব করেন বিমলেন্দু কোনার। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন পুনর্বাসনের জায়গায়  নির্বাচন পর্ব চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু এখন এই মানুষগুলোর পেটে ভাত জুটবে কিভাবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউ। শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment