SIR Protest Bengal

ছড়াচ্ছে এসআইআর বিক্ষোভ, মরিয়া জনতার মনোভাব বুঝতে হবে, বললেন সেলিম

রাজ্য জেলা

ভোটার তালিকায় নাম থাকায় বিক্ষোভ বাড়ছে গোটা রাজ্যে। মালদহে সুজাপুর ও মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ, পথ অবরোধ করছেন সাধারণ মানুষ। মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ হচ্ছে। এদিকে গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী ক্ষিতীশ সরকারকে মনোনয়ন জমা না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বামফ্রন্ট। 
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভোটাধিকার রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দুই শাসককে এই মনোভাব বুঝে চলতে হবে। তিনি বলেছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকার পরিস্থিতির জন্য দায়ী। 
মোথাবাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনকে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সন্ধ্যায় তদন্তভার সিবিআই’র হাতে তুলে দেয় নির্বাচন কমিশন।
বুধবার রাতে মোথাবাড়িতে এসআইআর’র কাজে নিযুক্ত বিচারপতিদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। 
এদিন নির্বাচনী জনসভায় মালদার ঘটনার জন্য কংগ্রেস এবং আইএসএফ-কে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরিকে ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে বুধবার গভীর রাতে বাড়ির দরজা ভেঙে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নজরুল ইসলামের নাম বিবেচনাধীন থাকলেও তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। 
সেলিম বলেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে যে কমিশন, রাজ্য প্রশাসন, বিডিও দপ্তর কেউ নির্ভুল তালিকা করতে পারে না। 
বিজেপি এবং তৃণমূল এসআইআর-কে বিভাজনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে। সেলিম বলেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে, বিনা প্রস্তুতিতে এসআইআর চালানো হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় চেপেছে জনগনের ওপর। নাম বাদ গিয়েছে। রাতারাতি মানুষকে বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এই ষড়যন্ত্র করছে, যারা ভোটার তালিকা এই প্রক্রিয়াকে ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগাতে চাইছে তাদের মানুষের এমন উষ্মার সম্মুখীন হতেই হবে।
সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। মানুষজন নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। ওয়াকফ থেকে ওবিসি- এ বা এসআইআর প্রক্রিয়া চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে নাগপুরের নির্দেশের সামনে তৃণমূল আত্মসমর্পন করছে। আর যখন মানুষ প্রতিকার চেয়ে রাস্তায় নামছেন তখন প্রশাসন-পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে গত বুধবার রাতে কালিয়াচক-২ ব্লকের সামনে অসংখ্য মানুষ বিক্ষোভ দেখান। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁদের উপর নির্মম আক্রমণ করানো হয়। মহিলা সহ পঞ্চাশের বেশি মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আন্দোলনরত স্থানীয় এক যুবক বিচারপতির গাড়ি চাপা পড়ে সংকটজনক অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
অভিযোগ রাজ্য প্রশাসন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে নিজেদের দায় এড়াতে চাইছে।

Comments :0

Login to leave a comment