দীর্ঘ তের বছর ধরে বৃদ্ধি করা হয়নি বেতন। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা দিয়েও নেই স্থায়ী শিক্ষকের মর্যাদা সহ একাধিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং রাজ্যের সরকারের দায়হীনতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখান ইউনাইটেড ওয়েস্টবেঙ্গল এনএসকিউএফ টিচার'স এসোসিয়েশন।
রাজ্যের সরকারের পাশাপাশি রাজ্যের ভোকেশনাল শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে।
শিয়ালদহে বিক্ষোভে এইশিক্ষকরা বলেছেন, ভোকেশনাল পড়ুয়াদের জন্য অধিকাংশ সময়ে ছাপানোই হয় না বই। গ্রামীণ প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে তাদের বেসরকারি বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্কুলে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন তেমনি আমাদের পেশাকেও ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
এদিন বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারের পতন চাওয়ার পাশাপাশি এদিন ভোকেশনাল শিক্ষকদের বাঁচানোর দাবিও জানান তাঁরা।
বিক্ষোভে শামিল ভোকেশনাল শিক্ষক সুমন চ্যাটার্জি বলেন, ‘‘১৩ বছর ধরে ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রীদের ভোকেশনাল শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। এই স্কিল ডেভেলপমেন্ট ছাড়া জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করা যাবে না। আমরা সেই স্কিল শিক্ষক এবং স্কুলের ছাত্রদের শিক্ষাদানের যে গোটা বিষয় তাকে এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারও এই বিষয়ে সমান ভাবে দায়ী। তারাই এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের রাস্তা খুলেছে। এই এজেন্সিগুলিও এই সুযোগে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তারা ব্যবসা করতে এসেছে। তারা কেন আমাদের সমস্যা বা ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা দেখতে যাবে?’’
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সরকারেরও আমাদের বিষয়ে কোনও দায়বদ্ধতা নেই।’’
পাশাপাশি, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি নিরুপম কোলে বলেন, ‘‘বি.টেক, এম.টেক, এমফার্ম করা শিক্ষক- শিক্ষিকারা এই ভোকেশনাল এডুকেশনের, উচ্চমাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা দিয়ে থাকি। ১৩ বছর ধরে সরকার আমাদের ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছে। আমাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে বঞ্চনা চালিয়ে যাচ্ছে।’’
কোলে বলেন, ‘‘আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও এজেন্সি প্রথার মাধ্যমে চিটফান্ডের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এই গোটা ঘটনার এবং এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের এই বিক্ষোভ। আমরা এই এনএসকিউএফ শিক্ষকদের বাঁচানোর পাশাপাশি স্থায়ী শিক্ষকের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’’
Comments :0