নির্বাচনের মুখে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল ময়নাগুড়ি। মঙ্গলবার বামফ্রন্টের ডাকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও গণ-অবস্থানে উত্তাল হলো শহর। এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চক্রান্ত তৃণমূল ও বিজেপি শুরু করেছে, তার প্রতিবাদে এদিন মানুষ রাজপথে শামিল হন।
এদিন ময়নাগুড়ির রাজপথ ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। বামফ্রন্ট নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে প্রান্তিক খেটেখাওয়া গরীব মানুষদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। সংখ্যালঘু, মতুয়া, প্রান্তিক মানুষ, বিবাহিত মহিলাদের টার্গেট করা হয়েছে। জেলাজুড়ে ‘এসআইআর’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মিছিল থেকে দাবি তোলা হয়, একজনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না। সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করেই তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে হবে।
গণ-অবস্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী সুদেব রায় বলেন, “তৃণমূল আর বিজেপির স্ট্র্যাটেজি একটাই, মানুষকে সব সময় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা আর দুশ্চিন্তা বাড়ানো। এই আতঙ্কের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রকৃত ভোটার হয়েও কাগজপত্রের চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। এই মৃত্যুর দায় শাসকদলকেই নিতে হবে।”
সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হরিহর রায় বসুনিয়া বলেন, “বামফ্রন্ট মানুষের পাশে আছে। জেলায় ১০ জন আইনজীবী দিনরাত তথ্যপঞ্জি খতিয়ে দেখছেন। আমাদের দাবি পরিষ্কার— মনোনয়ন দাখিলের আগেই সমস্ত প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
এদিনের অবস্থান বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা ভাস্কর রায়, জ্যোতি প্রকাশ ঘোষ, আরএসপি নেতা নূর আলম সহ বামফ্রন্টের অন্যান্য জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সোমবার ও মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে চলা এই কর্মসূচির মাধ্যমে বামফ্রন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চক্রান্ত করে ভোটাধিকার হরণ করা হলে আগামী দিনে জেলাজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। ‘আগে ভোটার, পরে ভোট’, এই দাবিতেই এখন অনড় ময়নাগুড়ির বামপন্থী কর্মীরা।
SIR Moynaguri
ষড়যন্ত্র রুখতে ময়নাগুড়ির রাজপথে লালঝাণ্ডা
×
Comments :0