Bihar Police

কিশনগঞ্জে পুলিশ আধিকারিকের বাংলোয় তল্লাশি, বিপুল সম্পত্তির হদিশ

জাতীয়

মঙ্গলবার সকালে থেকে কিশনগঞ্জের এসডিপিও গৌতম কুমারের সরকারি বাংলোয় অভিযান চালায় বিহার পুলিশের বিশেষ আর্থিক অপরাধ ইউনিট (ইডিইউ)। এদিন সকালে এডিপিও গৌতম কুমারের বেশ কয়েকটি জায়গায় ইওইউ’র একটি বিশেষ দল একযোগে অভিযান চালায় পাটনা, পূর্ণিয়া, কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া এবং এই রাজ্যের শিলিগুড়িতেও। ইওইউ দলটি পূর্ণিয়া শহরে গৌতম কুমারের দুটি প্রধান এলাকায় তল্লাশি চালায়। সকাল থেকে হাউজিং কলোনিতে অবস্থিত তাঁর বিলাসবহুল বাসভবনের নথিপত্র পরীক্ষা করে। কোর্তাবাড়িতে অবস্থিত বাসভবনের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত নথিগুলিও খতিয়ে দেখেন। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কিষাণগঞ্জে গৌতম কুমারের বাড়ি ও অফিসেও পৌঁছায় তদন্তকারি আধিকারিকরা। ১২ সদস্যের দলটি তিনটি গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছেছে। কাগজপত্র, নথি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র খতিয়ে দেখে। কিশনগঞ্জের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-১ গৌতম কুমারের সরকারি বাংলোয় মঙ্গলবার প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালাল বিহার পুলিশের বিশেষ আর্থিক অপরাধ ইউনিট (ইডিইউ)। পাটনা থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের কথা জানানো হয়।
সূত্রের খবর, আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিশেষ আদালতে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ৩/২০২৬ নম্বর মামলায় মঙ্গলবার সকালে পাটনা থেকে আসা ভিজিলেন্সের ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল গৌতম কুমারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৯ হাজার ২৪৪ টাকার বেআইনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে জানা গেছে। এই সম্পত্তির পরিমাণ তাঁর বৈধ আয়ের তুলনায় প্রায় ৬০.২৭ শতাংশ বেশি বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের।
এই দিন পাটনা, পূর্ণিয়া ও কিশনগঞ্জ-সহ মোট ছয়টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। কিশনগঞ্জে তল্লাশি শেষে পাটনা ফেরার আগে দলের এক আধিকারিক জানান, অভিযান শেষ হয়েছে এবং শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
অভিযানের শুরুতে গৌতম কুমারকে হেফাজতে নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বর্তমানে তিনি কিশনগঞ্জেই রয়েছেন এবং এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণিয়ার হাউসিং কলোনিতে তাঁর একটি বড় বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া কিশনগঞ্জের সরকারি বাংলো, মধুবনীর শ্বশুরবাড়ি, ভাগলপুর, শিলিগুড়ি এবং পূর্ণিয়ার মাধপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়ি-সহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে প্রচুর নথিপত্রের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গয়নাও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি। তদন্তকারী দল জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত নথিপত্রের সিজার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর বেশি কোনও মন্তব্য করতে চাননি তাঁরা। এই ঘটনায় পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, যদিও জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্তারা এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি।

Comments :0

Login to leave a comment