বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, সুদীপ্ত গুপ্তের শহীদ দিবসে 'স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও, শিক্ষা বাঁচাও, বাংলা বাঁচাও' তথা বাম পুনরুত্থানের কারিগর হওয়ার ডাক দিয়ে বৃহস্পতিবার দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে শুকের আলী মোড় পর্যন্ত 'সুদীপ্ত মিছিল' করে এসএফআই সহ চার বাম ছাত্র সংগঠন। পাশাপাশি এদিন দমদম এবং দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বাম মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থীর সমর্থনও চলে মিছিল।
এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এসএফআইয়ের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাস, এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, এসএফআই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক কর সভাপতি দীপ্তজিৎ দাস। এছাড়াও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই সহ বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়যুক্ত হবার পরেই কলেজে কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দেয়। এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি নিয়ে ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল আইন অমান্য করে এসএফআই। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তও। ওই কর্মসূচির মধ্যে থেকেই সুদীপ্ত গুপ্ত সহ বেশ কয়েকজন এসএফআই কর্মীকে আটক করে পুলিশ পাশাপাশি চলে শারীরিক নির্যাতন। আটককারীদের প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই প্রিজন ভ্যান থেকে ধাক্কা মেরে নামানোর সময় ল্যাম্পপোস্টে আঘাত লাগে। ওই অবস্থাতেই পুলিশ তার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করলে তার নাক মুখ থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পরে এসএফআই তথা বিভিন্ন বাম-প্রগতিশীল মানুষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও বিভিন্নভাবে ঘটনাটিকে লঘু করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুদীপ্ত গুপ্তের শহীদ দিবসে সারা রাজ্য জুড়ে সুদীপ্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। এদিনের মিছিল থেকে দেবাঞ্জন দে বলেন, "সুদীপ্ত গুপ্ত মানে ক্যাম্পাস গণতন্ত্রের কথা, যে কথা বলতে গিয়ে সুদীপ্ত গুপ্তকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এই রাজ্যের তৃণমূলের সরকার। পুলিশি হেফাজতে খুন করেছিল সুদীপ্ত গুপ্তকে ২০১৩ সালে এবং আমরা দেখেছিলাম সুদীপ্ত গুপ্তের রক্তের বিনিময়ে আবার ছাত্র ভোট সংগঠিত করতে বাধ্য হয়েছিল রাজ্যের সরকার। কিন্তু বিগত নয় বছর ধরে এই ভোটকে বন্ধ করে রেখেছে, ১৮ থেকে ২৫ বছরের ছেলেমেয়েরা আর কিছুদিনের মধ্যে তাদের বিধানসভা কেন্দ্রে কে প্রার্থী হবেন তা নির্বাচন করবেন, মন্ত্রী তথা রাজ্য সরকার কারা গঠন করবেন তাও নির্বাচন করবে। কিন্তু নয় বছর ধরে তার কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচিত করার অধিকার তারা পাচ্ছে না। সেই অধিকার প্রয়োগের লড়াইকেই আমরা তীব্রতর করতে চাইছি।"
এদিন প্রচারের মাঝেই ময়ুখ বিশ্বাস বলেন, " সুদীপ্ত যখন শহীদ হয়েছিলেন তখন এই বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ব্রাত্য বসু, আজকে শপথের মিছিল। গোটা রাজ্যের তথা দমদমের মাটি থেকে যারা শিক্ষাকে ব্রাত্য করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, আমরা তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যও এই মিছিল করছি।"
Comments :0