চলতি মাসের ২১তারিখ রেল দপ্তরের উচ্ছেদ অভিযানে বিপর্যয় নেমে এসেছে নিউ কোচবিহার রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের জীবনে। রীতিমতো বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০০ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রেল দপ্তরের এই কর্মকাণ্ডে রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসায়ী। এছাড়াও ভেঙে ফেলা হয়েছে রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনের দপ্তর, ক্লাব এবং সর্বোপরি দীর্ঘদিনের একটি বেসরকারি শিশু বিদ্যালয়।
দ্রুততার সাথে এই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন, তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, এই উচ্ছেদ হওয়া প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে হকারির লাইসেন্স দেওয়া সহ উচ্ছেদ হওয়া শিশু বিদ্যালয়, রেল শ্রমিকদের দপ্তর কিংবা গুঁড়িয়ে দেওয়া ক্লাব প্রতিষ্ঠান নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার দাবিতে শনিবার এই নিউ কোচবিহার রেলস্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ, মিছিল ও নিউ কোচবিহার রেল ষ্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এর মাধ্যমে আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের ডিআরএম-কে ডেপুটেশন দিল সিপিআই(এম)।
এদিন এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা তারিণী রায়, অমিত দত্ত, মনোজ কুমার দাস, মোজাম্মেল হক সহ শ্রমিক নেতা কাঞ্চন ঘোষ, সুবোধ চক্রবর্তী প্রমূখ।
চলতি মাসের ১৮তারিখ রেল দপ্তর নোটিশ জারি করে জানিয়ে দেয় ২১তারিখ বেলা ১১টার মধ্যে রেলের জায়গায় থাকা দোকান সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায়, রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে এগুলি ভেঙে গুড়িয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে। এত কম সময়ের মধ্যে সকল ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান সরিয়ে নিতে সমর্থ হননি। তারা সময় চাইলেও, তাদেরকে আর বাড়তি সময় দেওয়া হয়নি। অবশেষে দিন বুলডোজার নিয়ে এসে এই সমস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কেউ ১৫বছর, কেউ ২০বছর, আবার কেউ বা ৩০বছর যাবত এই এলাকায় ব্যবসা করেই তাদের সংসার প্রতিপালণ করে আসছিলেন। রেল দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। এভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসার প্রতি পালন করবার ক্ষেত্রে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন এই উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা। অবিলম্বে তাদের পুনর্বাসনের দাবির পাশাপাশি এই স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে থাকা সিআইটিইউ অনুমোদিত নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে কন্স্ট্রাকশন লেবার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দপ্তর, একটি বেসরকারি শিশু বিদ্যালয়, ক্লাব সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেল দপ্তরের বুলডোজার। অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে তুলতে বিকল্প স্থানের দাবিতেও এদিন সোচ্চার হয়েছেন তারা বলে জানান নেতৃত্বরা।
Comments :0