এসআইআর’র শুনানির নামে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যায় যখন আইন হয়ে যায় তখন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়। রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে বিজেপি’র
অসভ্যতা-বর্বরতার প্রতিবাদে ১৭ জানুয়ারি সর্বত্র রাস্তায় নামবে সিপিআই(এম)।
বুধবার কলকাতায় মুজফ্ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানান সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির পক্ষে নির্বাচন কমিশনের সিইও-কে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
১৭ জানুয়ারি জননেতা জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবস। সেলিম বলেন, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর জ্যোতি বসু বিজেপি এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে বলেছিলেন অসভ্য-বর্বর। আজ দেশজুড়ে আমরা তা দেখছি। উত্তরাখণ্ডে বিজেপি নেতাকে ‘খুশি করতে’ রাজি না হওয়ায় হোটেলের রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা ভাণ্ডারিকে খুন করা হয়েছে। আসামে আদানির জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে গরিব মানুষকে। ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ কেবল নয়, উদ্বাস্তু লোকালয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ১৭ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ হবে।
এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া যখন বিহারে হলো তখন ‘লজিক্যাল ডেসক্রিপ্যান্সি’ বলে কিছু ছিল না। আমাদের রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরুর সময়ও বলা হলো না। খসড়া তালিকা হয়ে যাওয়ার পর তা’হলে এই বিষয়টি আনা হলো কী করে? জোর করে নাম দিতেই হবে, তার জন্য?
কার নির্দেশে হচ্ছে এসব, কালীঘাট না নাগপুর, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। সেলিম বলেন লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র নামে চরম ‘ইললজিক্যাল’ (অযৌক্তিক) কাজ হচ্ছে। কারণ, যুক্তির ধার ধারছে না কমিশন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ‘আনম্যাপড’, অর্থাৎ ২০০২’র তালিকার সঙ্গে কোনও সংযোগ মেলেনি, এই হার ছিল সবচেয়ে কম। এখন এসব জেলাতেই বেছে বেছে গুচ্ছ গুচ্ছ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে কী করে? যুক্তি কী?
সেলিম বলেন, সবচেয়ে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে মহিলা, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি, আদিবাসী সহ প্রান্তিক মানুষকে।
সেলিম বলেন, ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ফর্ম ১২-তে নোটিশ দিতে হয়। অথচ বিএলও-দের দিয়ে ফোন করে বলানো হচ্ছে, ডেকে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আইন মানছে না।
সেলিম বলেন, একই সঙ্গে আমরা দেখছি যে খসড়া তালিকায় এমন নাম রয়েছে যাঁরা মৃত। রয়েছে ভুয়ো নাম। তার মদ্যে তৃণমূল সমর্থক পরিবারের এমন নাম রয়েছে। সেঘুলি থাকছে কী করে? ভুয়ো নাম থাকছে, অথচ বৈধ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কাটোয়ায় বিক্ষোভ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নেৃ বিজেপি-কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তৃণমূলকে বিএলও অফিসে তাণ্ডবের সুযোগ করে দিচ্ছে কে? ইডি-র হাত থেকে মমতা ব্যানার্জিকে ফাইল ছিনতাইয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে কে?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন বলেছে যে নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য শুনানির নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের তো একাজ করার কথা নয়। সেই দায়িত্বও সংবিধান কমিশনকে দেয়নি।
সেলিম বলেন, সামনেই সাধারণতন্ত্র দিবস। জনসাধারণের থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তার অধিকার। তিনি বলেন, সর্বজনীন ভোটাধিকার গুলিয়ে দিয়ে ভোটদানের অধিকার গণহারে কেড়ে নিতে চাইছে। সংবিধান আমাদের সর্বজনীন ভোটাধিকার অধিকার দিয়েছে। আরএসএস-বিজেপি ফ্যাসিস্ট কায়দায় গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। গণতন্ত্রকে সংরক্ষিত করতে চাইছে একটি অংশের জন্য। রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Md Salim on SIR
চূড়ান্ত অযৌক্তিক কমিশন, চিঠি সেলিমের, ১৭ জানুয়ারি বিক্ষোভের ডাক
×
Comments :0