অনির্বান দে
ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হয় ভোটের জন্য। তারপর খেল, খতম পয়সা হজম হয়ে যায়। সার্কাসের তাঁবু লাগানো হয়। সার্কাস শেষে কেউ গুজরাটে যায়। কেউ দিল্লীতে। কিন্তু মাটিতেই থাকে বামপন্থীরা। বামপন্থীদের লড়াই তীব্রতর করতে হবে। মুর্শিদাবাদে রেজিনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সমাবেশে এই কথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাধারণ মানুষের মধ্যে তৃণমূল ধর্ম নিয়ে ঝগড়া লাগিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি তৃণমূল বোঝাপড়া করে নিচ্ছে। এসআইআরে হাজার হাজার মানুষকে নোটিশ দিচ্ছে।
শনিবার সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা, সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহ রায়, শেখ হাসিনা। রেজিনগর এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সাইদ। সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) নেতা বদরুদ্দিন সেখ। জামির মোল্লা বলেন, "ওবিসি থেকে ওয়াকফ ইস্যুতে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে ভোটের লোভে ওবিসিদের সর্বনাশ করেছে। দুর্নীতির মাময়ায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকার। সংখ্যালঘু ওবিসিদের জন্য আদালতে যায়নি সরকার। সংখ্যালঘুদের ধোঁকা দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি দেশজুড়ে আক্রমণ নামিয়ে আনছে।"
এদিন মহম্মদ সেলিম বলেছেন, "ওরা সবাই মিলে একজোট হয়েছিল। বলেছিল লাল হটাও দেশ বাঁচাও। এখানে রাস্তা হয়েছিল, পঞ্চায়েতের কাজ হয়েছে, শিক্ষা প্রসারের কাজ হয়েছে। ওরা বলেছিল রোজ রোজ শাক ভাত খেলে হবে না, মমতা এবার বিরিয়ানি দেবে। এইভাবেই তো ধোঁকা দিয়েছিল। এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন লাল হটল কিন্তু দেশ বাঁচলো না। তাই দেশকে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে।"
সেলিম আরও বলেছেন, "সেই লালঝান্ডা যখন মজবুত হচ্ছে তখন বিজেপি-তৃণমূল আবার নতুন করে নাটক সাজানো শুরু করেছে। ইডির রেড হচ্ছে, সেখানে কী কাউকে ঢুকতে দেয়। কেমন ইডি রেড করছে বুঝতে পাড়ছেন। মমতা ব্যানার্জি ঢুকছেন সব নিয়ে চলে যাচ্ছেন। ওটা সরকারি অফিস না তাহলে সরকারি ফাইল ওখানে কী করছে? ওটা তৃণমূলের অফিস না তাহলে তৃণমূলের ফাইল ওখানে কী করছে? যদি থাকেই বা, মমতা ব্যানার্জি ঢুকলেন আর এতো ফাইল, কম্পিউটারের মধ্যে মমতা ব্যানার্জী ঠিক জানেন কোন আলমারিতে কোন ফাইলটা আছে। কোন মোবাইলটা নিতে হবে। একটা অফিসে এতো কিছু আছে। তাহলে এ আন্দার কী বাত হ্যে।"
তিনি বলেছেন, "রাজ্য সরকার নবান্ন বা তৃণমূল ভবন থেকে চলছে না। সুপারি কিলাপের মতো সুপারি দেওয়া আছে তারা চালাচ্ছে। ওটা ধরা পরে গেলে সব জানা যাবে। এই জন্য রাজীব কুমারের বাড়িতে যাওয়ার সময় একই নাটক হয়েছে। এখানে মমতা ব্যানার্জি বলেছে আমরা ওখানে যাচ্ছি। তুমি যাতে ধরা না পর তাই মালটা সরিয়ে নাও। এটাকে বলে সেটিং। সেটিং আছে বলেই মমতা ব্যানার্জি বলছে, আমি সব জানি বিজেপির কী কী আছে। তাহলে ব্যবস্থা নেননি কেন ? আর অমিত শাহ বলবেন সব জানি, তাহলে ব্যবস্থা নেননি কেন?"
মহম্মদ সেলিম বলেন, "বিজেপি কেন্দ্র সরকারে থাকলে তৃণমূলের দুর্নীতি, মমতা অভিষেকের দুর্নীতি, কালোটাকা, পাচারের টাকা বিরুদ্ধে তদন্ত হবে একথা কেউ বিশ্বাস করে না কিছু ভক্ত ছাড়া আমরা চোখের সামনে দেখলাম ইডি যখন রেড করছে তখন মুখ্যমন্ত্রী ঢুকলেন পুলিশ পাহাড়ায়। তারপর সব মালপত্র নিয়ে ট্যাব নিয়ে, ল্যাপটপ নিয়ে মোবাইল নিয়ে বেড়িয়ে চলে আসলেন। কখনও কোথাও হয় এতো হাসির খোরাক হয়েছে।" তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আগে যখন সন্দেশখালীতে, রাজীব কুমারের সময় দেখেছে তৃণমূল কী রকম অপরাধী, কিভাবে পুলিশকে ব্যবহার করে তথ্য লোপাট করে। তাহলে কেউ আগে থেকে ব্যবস্থা নিল না, আগে থেকে তো ব্যবস্থা নিতে হতো। এখনও কেন এফআইআর হয়নি। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দিলে তো আইন আছে এফআইআর করল না কেন।"
এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ সেলিম বলেন, “আমরা সব সময় বলছি লুঠেরা তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে সবাইকে একাট্টা হতে হবে, আমরা সেই চেষ্টায় করছি। আমরা বামপন্থীরা নতুন যে বাংলা গড়বে নতুন যে শিশুর জন্য হবে তার জন্য কাঁথা সেলাই করছি। এবার তো বাকিদের ঠিক করতে হবে তারা কাপড় দেবে কী দেবে না। কংগ্রেসকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আসতে হবে। ঐক্যটা একতরফা হয় না, দুতরফের পক্ষ থেকে হয়।”
Comments :0