Jalpaiguri

জলপাইগুড়ি শহরে হাতির তান্ডব, ক্রেনের সাহায্যে পরিস্থিতি সামাল বনকর্মীদের

জেলা

বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল সংলগ্ন জলপাইগুড়ি শহরে ফের বুনো হাতির প্রবেশ। সোমবার সকালে বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চল থেকে তিনটি হাতির একটি দল খাবারের সন্ধানে করলা ভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পড়ে। চা বাগানের মধ্যেই থাকা একটি গভীর কুয়োয় পড়ে যায় একটি সাব-এডাল্ট হাতি। খবর পেয়ে বনদপ্তর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেনের সাহায্যে হাতিটিকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর বনকর্মীরা হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ধার হওয়া সাব-এডাল্ট হাতিটি জঙ্গলের দিকে না গিয়ে করলা নদীর পাড় ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ডেঙ্গুয়াঝার চা বাগান পেরিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সন্ধ্যার পর শহরের ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী কবরস্থানে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে। কখনও এসি কলেজের হোস্টেল সংলগ্ন এলাকাতেও যাতায়াত করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাতির উপস্থিতির খবরে এলাকায় উৎসাহী মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও বনকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। বনদপ্তরের তরফে গভীর রাতে হাতিটিকে ড্রাইভ করে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও বাজি-পটকার শব্দ, মানুষের তাড়া এবং জাতীয় সড়কে চলাচলকারী ভারী যানবাহনের কারণে হাতিটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। বারবার একই এলাকায় ফিরে আসায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
হাতিটি একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং একজনকে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোর রাতে ৪ টা নাগাদ বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির পেছনের এলাকা থেকে হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইস করে ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়। বনদপ্তর জানিয়েছে, চিকিৎসার পর তাকে উপযুক্ত বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে। অভিযানে বনকর্মীদের পাশাপাশি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরাও সক্রিয় ভূমিকা নেন।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি ও তার আশপাশের এলাকা একসময় ছিল হাতির প্রাচীন বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরের অংশ। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জঙ্গল কেটে রাস্তা, রেললাইন, চা বাগান ও বসতি গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। বনাঞ্চলে খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব হাতিদের লোকালয়ে নামতে বাধ্য করছে বলে মত পরিবেশবিদদের। ২০২১ সালেও এসি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হাতির অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হাতির প্রাচীন করিডর চিহ্নিত করে তা অবিলম্বে রক্ষা করতে হবে। বনাঞ্চলে হাতির প্রিয় খাদ্যগাছ — জামবুড়া, চালতা, কাঁঠাল, কলা প্রভৃতি রোপণ, স্থায়ী জলাশয় ও খাদ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং শহর ও নদীর পাড়ের ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি বনদপ্তর, প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষের সমন্বয়ে স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধনের প্রাক্কালে শহরের এত কাছে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশাসনের প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি বননীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।

Comments :0

Login to leave a comment