পুরুলিয়া শহরের এক বহুতল হোটেলে প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ডেরা বেঁধে লুকিয়ে ছিল চার বাংলাদেশি যুবক। মহিলাদের পোশাক পরেই লুকিয়ে ছিল ওই চার যুবকরা। অবশেষে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর শহরে এক সন্দেহভাজন মহিলার পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাকে জেরা করে উঠে আসে পুরুলিয়া শহরে লুকিয়ে থাকা আরও ৩ বাংলাদেশির তথ্য। অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করা সন্দেহভাজন ৪ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে রঘুনাথপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দফায় দফায় জেরা চালাচ্ছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। কিভাবে, কি উদ্দেশ্য নিয়ে পুরুলিয়ায় লুকিয়ে ছিলেন ওই ৪বাংলাদেশি যুবক ? উঠছে প্রশ্ন।
যে হোটেলে ৪ বাংলাদেশি যুবকরা লুকিয়ে ছিল সেই আবাসনের মালিক থেকে নিরাপত্তারক্ষী বা কর্মী কেউ জানতই না তারা ভিন দেশের বাসিন্দা। সকলেই সর্বক্ষণ মহিলাদের পোশাক পরে থাকায় পুরুষ হিসেবে কারুর সন্দেহ হয়নি। প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে থাকত পুরুলিয়া শহরের একটি আবাসনে উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা মনি সরকার নামে এক মহিলার আধার কার্ড দেখিয়ে হোটেল রুম বুক করেছিল তারা।
৩ মাস ধরে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ১টি ঘরে তারা থাকছিলেন। মহিলার পোশাক পরে থাকত ওই ৪ জন পুরুষ। এদের সঙ্গে থাকতেন আরও বেশ কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। অথচ তারা কি কাজ করতেন, কোথা থেকে এসেছেন কেউ জানতই না। পরে পুলিশ এসে রুমে থাকা সবাইকে সদর থানায় নিয়ে যায়। তার পরেই ৩ বাংলাদেশি যুবকদের আটক করার পর আসল রহস্য বুঝতে পারেন সকলেই। কিন্তু একজনের আধার কার্ড দেখিয়ে বুকিং করা হোটেল রুমে একাধিক বাংলাদেশি যুবককে মাসের পর মাস ধরে কেন থাকতে দিতেন হোটেল মালিক ? সেই বেনিয়াম নিয়েও উঠছে প্রশ্ন ।
জানা যায়, পুলিশকে ধৃত তৌহীদ যে বয়ান দিয়েছে সেই বয়ান অনুযায়ী গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে সালকা হাসপাতালের সামনে শাড়ি পরা এক জনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় স্থানীয় বৃহন্যলরারা পরে তারাই পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ তাকে আটক করে রঘুনাথপুর থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দেন মহম্মদ তৌহিদ মণ্ডল হিসেবে। তার বাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার হাবাসপুর গ্রামে । গত ১ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে নদিয়া জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তারা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরুলিয়া টাউন থানার এই আবাসনে অভিযান চালিয়ে আরও ৩ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন মহাঃ জাহিদ ইমন, সুমন শেখ এবং শান্ত হোসেন। তাদের প্রত্যেকের ঠিকানাই বাংলাদেশের রাজবাড়ি ও কুষ্টিয়া জেলায়। চারজনকেই রঘুনাথপুরে একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য নির্বাচনের আগে বিজেপি দাবি করেছিল তারা ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে পাখীও গলবে না।
Purulia
পুরুলিয়ার হোটেল থেকে আটক চার বাংলাদেশি যুবক
×
Comments :0