Sangita Roy SC Certificate

এসসি শংসাপত্র! তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের বাড়ির দেওয়ালে প্রশাসনিক নোটিস

জেলা

সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিধায়ক সঙ্গীতা রায় এখন গভীর সংকটে ,‘সৎ নাগরিক’ হওয়ার মাপকাঠিতে কি তিনি সমানভাবে উত্তীর্ণ হতে পারবেন? সেই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের তফশিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র। ২০২৪ সালের সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় থেকেই তার সংশাপত্র ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। সেই সময় অভিযোগটি হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগ ওঠে ভুয়ো এসসি শংসাপত্র ব্যবহার করে সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হন বিধায়ক। মঙ্গলবার সকালে সিতাই বাজারে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে সিতাই ব্লক প্রশাসনের জারি করা একটি নোটিশ টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাচক্রে, এদিনই ছিল প্রশাসনের নির্ধারিত নথি যাচাইয়ের শেষ দিন। বিডিও অফিসে গিয়ে যাচাই করাতে হবে এসসি শংসাপত্র। এই মর্মে মহকুমা শাসকের নির্দেশে চিঠি পাঠিয়েছেন বিডিও। এসসি শংসাপত্র যাচাইয়ে প্রশাসনিক নোটিশ, বাড়িয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনহাটা মহকুমা শাসকের নির্দেশে বিধায়কের এসসি শংসাপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি-সহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে বিধায়ককে বাড়িতে না পেয়ে তার বাড়ির দেওয়ালে নোটিশটি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত,উল্লেখ্য ২০২৪ সালের এই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগেও সঙ্গীতা রায়ের তপসীলি জাতি সংশাপত্র যাচাইয়ের জন্য আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী। ফের এক মাস আগে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ)-এর পক্ষ থেকে দিনহাটা মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে সঙ্গীতা রায়ের এসসি শংসাপত্র বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকেই সঙ্গীতা রায়ের এসসি শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে বামফ্রন্ট সহ বিরোধী দলগুলিও। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে সঙ্গীতা রায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারিভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন জমা পড়ে। এর ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই দিনহাটা মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়। এই বিষয়ে বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাতেই সিতাই ছেড়েছেন বিধায়ক এবং সাংসদ দুজনেই। বাড়িতে ঝুলছে তালা। কিছুদিন আগে দুজনে কোচবিহার শহরে এলেও সিতাইয়ের দিকে পা-মাড়ান নি দুজনেই। জানা গেছে এলাকায় ফেরার জন্য দিল্লী ও কলকাতার শাসক দলের নেতাদের কাছে দরবার করছেন এই দম্পতি। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, বিধায়ক প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন কি না এবং তদন্ত শেষে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়। শংসাপত্র যাচাইয়ের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ। তবে শংসাপত্র ভুয়া প্রমানিত হলে বিধায়কের পদ বাতিল হতে পারে বলেই জানিয়েছে তথ্য অভিজ্ঞ মহল।
রাজনীতিতে দলবদল অনেক সময় পরিচয় বদলের রাস্তা খুলে দেয়, কিন্তু নাগরিক পরিচয়ের প্রশ্নে শেষ কথা বলে প্রশাসনিক নথিই। তাই সিতাইয়ের এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক যতই তুঙ্গে উঠুক না কেন, শেষ পর্যন্ত নজর থাকবে প্রশাসনের যাচাই প্রক্রিয়া এবং তার সরকারি সিদ্ধান্তের দিকেই।

Comments :0

Login to leave a comment