ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন এবং আসন্ন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানান, তেহরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে তিনি এই আশ্বাস পেয়েছেন। তবে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দেননি তিনি।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা জানিয়েছে যে ধরপাকড় বন্ধ হয়েছে এবং আজ যে মৃত্যুদণ্ড গুলো কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা হবে না। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং সত্যতা যাচাই করে দেখব।’ মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা এখনও আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হয় তা দেখব।’
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন সংবাদ সংস্থা ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, বুধবার বা বৃহস্পতিবার কোন ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে তিনি এই সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য ইজরায়েলকে দায়ী করে বলেন, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী উপাদান বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। আরাঘচির মতে, এই গোষ্ঠীগুলোই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে প্ররোচিত করার ষড়যন্ত্র করেছিল।
ইরানের বিচারমন্ত্রী আমিন হোসেন রহিমিও একই সুর মিলিয়ে বলেছেন, ৭ জানুয়ারির পর যারা রাস্তায় ছিল তারা বিক্ষোভকারী নয়, বরং অপরাধী।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে গত কয়েক দিনের দমন-পীড়নে অন্তত ৩,৪২৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে টানা ১৪৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নজিরবিহীন নৃশংসতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আমেরিকার অনুরোধে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। ব্রিটেন ইতিমধ্যেই তেহরানে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানির লুফথানসা এয়ারলাইন্স পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের আকাশপথ এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
IRAN USA
ইরানে বন্ধ হয়েছে দমন পীড়ন দাবি ট্রাম্পের
×
Comments :0