Palestine

সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে জনস্রোতে উঠবে

বিশেষ বিভাগ ফিচার পাতা

কেন মহামিছিল, সভা ১ সেপ্টেম্বর

আক্রান্ত প্যালেস্তাইন
অনাহারে মানুষ
গাজা গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। শহরের ২৪ লক্ষ বাসিন্দার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরছাড়া হয়েছেন। গত কয়েক মাসে অন্তত ২৬০ জনের অনাহারে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১০ জন শিশু। ইজরায়েলের অমানবিক অবরোধের জেরে বর্তমানে শহরের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ অনাহারে ভুগছেন।

নৃশংস ইজরায়েলের শাসক

হামলা চলছে ২০২৩-এর অক্টোবর থেকে। সংঘর্ষ বিরতিতে হামাস রাজি হয়ে যাওয়ার পরেও ইজরায়েল হামলা থামায়নি। তাদের মনোভাব প্রমাণ করছে, প্যালেস্তিনীয়দের পুরোপুরি মুছে ফেলাই তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। নতুন করে সেনা অভিযানের ঘোষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইজরায়েলী পণবন্দিদের পরিবার। বর্তমানে ৫০ জন ইজরায়েলী পণবন্দি হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন। তার মধ্যে ২০ জন এখনও জীবিত রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ৬০ দিনের যে সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়, তার শর্ত অনুযায়ী তারা ১০ জন ইজরায়েলী পণবন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়। 
ইজরায়েলের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলে পরিচিত বিভিন্ন দেশও ইতিমধ্যে এই ‘ভাতে মারা নীতি’-কে স্পষ্টভাবেই গণহত্যা বলে চিহ্নিত করেছে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্পেন, কানাডা, জার্মানির মতো বিভিন্ন দেশ ইজরায়েলকে পত্রপাঠ গাজায় ত্রাণ সামগ্রী ঢুকতে অনুমতি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।  

নিহত সাংবাদিকরাও

২০২৩-র অক্টোবর থেকে গাজায় মোট ২৪৭ জন প্যালেস্তাইন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২০২০-র অক্টোবর থেকে পরবর্তী তিন বছর বিশ্বে সব মিলিয়ে এত সংখ্যক সাংবাদিক নিহত হননি। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ কর্মী সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ জানায়, গাজায় ইজরায়েলের নৃশংস কার্যকলাপ আড়াল করতেই সাংবাদিকদের হত্যা করা হচ্ছে।

ভারতের নির্লজ্জ নীরবতা

আরএসএস ইজরায়েলের জায়নবাদী শাসকদের সমর্থক। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে গত প্রায় ১১ বছর বিজেপি। মোদী সরকার কখনোই ইজরায়েলের হামলার বিরোধিতা করেনি। কিন্তু এখনও তারা চুপ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের এই অবস্থান লজ্জাজনক। 
বেঞ্জামিন নেতানেয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ পার্শ্বচরেরা ৯ মার্চ থেকে গাজা ভূখণ্ডে সবরকম খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ বন্ধ করার মতো জঘন্য অপরাধের যে-পরিকল্পনা কার্যকর করছে, সেজন্য তাদের নিন্দা করার ভাষা পর্যন্ত নেই। হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী শক্তিগুলির ইজরায়েলপন্থী এবং মুসলিম-বিরোধী একাংশ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। এখন আমরা দেখছি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং উপনিবেশবাদ-বিরোধী ঐতিহ্যের উল্টোরথ যাত্রা। এটাই মোদী সরকার ও হিন্দুত্ববাদী শাসকদের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। প্যালেস্তিনীয় জনগণের সংগ্রাম এবং গাজা রক্ষার লড়াইকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির যূপকাষ্ঠে বলি দেওয়া যায় না।

ইউনুসে আছেন, প্যালেস্তাইনে নেই মমতা

প্যালেস্তাইনে ইজরায়েলের লাগাতার হামলার বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জি কিংবা তৃণমূলের কোনও নেতা একটি কথাও বলেননি কখনও। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, গত ৫আগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়লেন। ৮আগস্ট মুহম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার আসন নিলেন। আর ৯আগস্ট তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত থেকে প্রথম বার্তা পাঠালেন সঙ্ঘের ‘সাক্ষাৎ দূর্গা’ মমতা ব্যানার্জি। যে মার্কিন প্রশাসন হিলারি ক্লিন্টনকে পাঠিয়েছিল মহাকরণে কমিউনিস্ট, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষদের সরকার থেকে উৎখাত করার জন্য অভিনন্দন জানাতে, সেই মার্কিন প্রশাসনই মোদীর সরকার এবং দলের বন্ধু। আবার তারাই জামাত সহ মৌলবাদীদের সমর্থনপুষ্ট ইউনুস সরকারের মিত্র। মমতা ব্যানার্জি বারবার দাবি করেন, ‘বিদেশের নীতির বিষয় আমাদের কিছু বলার নেই। দেশের সরকার যা পদক্ষেপ নেবে আমরা তার পক্ষে।’ তাহলে কোন শর্তে, কার নির্দেশে তিনি উপযাচক হয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করা ইউনুসকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন? সঙ্ঘের নির্দেশে? নাকি মার্কিন প্রশাসনের নির্দেশে? নাকি দুয়েরই নির্দেশে?

গাজার জন্য মিছিলে বাধা 
গত জুলাই মাসে গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ‘অল ইন্ডিয়া সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’। এই ধরনের কর্মসূচি দেশের বিদেশ নীতির বিরোধী বলে অভিযোগ করে পুলিশ প্রশাসন তার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। পুলিশি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সিপিআই(এম)। গত ২৫ জুলাই বিচারপতি ঘুগে ও অঙ্খডের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সিপিআই(এম)’র আইনজীবী মিহির দেসাই জানান, যে কোনও নির্ধারিত জায়গাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। এই অধিকার কেড়ে নিতে আইন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের যুক্তি কখনই দেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্বোক্ত রায়ে এমনটা বারেবারে বলা হয়েছে। কিন্তু এই সমাবেশকে ‘জাতীয় স্বার্থ বিরোধী’ বলে অভিহিত করেন বিচারপতিরা। তাঁরা বলেন, ‘‘দেশে অসংখ্য ইস্যু রয়েছে। আলাদা করে দূর দেশের অবান্তর বিষয় নিয়ে প্রতিবাদের কোনও প্রয়োজন নেই। নিজের দেশের দিকে তাকান। দেশপ্রেমিক হন! এটা দেশপ্রেম নয়! এসবের প্রয়োজন কী?’’ যদিও গত ১২ আগস্ট জনমতের চাপে সেই লজ্জাজনক রায় কার্যত প্রত্যাহার করে, মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে সিপিআই(এম)-কে বিক্ষোভ সমাবেশ করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয় আদালত।
----------------------------------------

ভারতে আমেরিকার মাতব্বরি

ভারতের স্বাধীনতা  ৭৮তম বার্ষিকীতে পা রেখেছে। এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভারতকে খোলাখুলি বলছে যে, তাদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। বিজেপি সরকার এই মাতব্বরির বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। এর আগে বেশ কয়েকবার মার্কিন সামাজ্যবাদ চেষ্টা করেছে ভারতকে তাদের নির্দেশ মেনে নিতে। তবে এখনকার ও আগের ঘটনাগুলির মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এখনকার হুমকি এই ভাষায় দেওয়া হচ্ছে না যে ‘যা বলা হচ্ছে তা আপনাদের ভালোর জন্যই বলা হচ্ছে।’ বরং এখন যা বলা হচ্ছে তা আরও সরাসরি,‘যা বলছি তাতে আমাদের ভালো হবে। তেমনটাই করুন। তেমনটা না-করলে আপনাদের শাস্তি পেতে হবে’। দ্বিতীয়ত, আগেকার সরকারগুলির মতো ভারত সরকার দৃঢ়ভাবে এই হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না।
এখন ট্রাম্পের যে গুন্ডামি  সেটা শুধু ভারতের ওপরেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে দুটি ইস্যু রয়েছে। প্রথম ইস্যুটি শুল্ক। শুল্ক নিয়ে ১ আগস্টের মধ্যে—দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তার মানে আমেরিকার বাজারে ভারতের ওপর বসবে ২৫ শতাংশ শুল্ক। দ্বিতীয় হলো জরিমানা শুল্ক। রাশিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে ভারত। এর ওপর ট্রাম্প ব্রিকস নিয়ে হুমকি জারি করেছেন। যার মানে হলো ভারতের ওপর তর্জন-গর্জন করা যাতে হয় ভারত ব্রিকস ছেড়ে দেয়। নতুবা ব্রিকসের ভেতরে থেকে মার্কিন ট্রোজান হর্স হিসাবে কাজ করে। তব এর কোনও আশু তাৎপর্য নেই। রাশিয়ার তেল কেনার যে আশু ও বুনিয়াদি ইস্যু, তাতে ভারত সরকার নড়বড়ে অবস্থান নিচ্ছে, পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছে। আসলে এ হলো ছলচাতুরির আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তোষণ করা।
মার্কিন সম্মতি প্রাপ্ত যে-সব সূত্র থেকে ভারত তেল পেতে পারে, রাশিয়ার তেল তার চেয়ে শস্তা। তার মানে এটা স্পষ্ট যে ভারতকে রাশিয়ার তেল না-কেনার জন্য চাপ দেওয়া মানে ভারতের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই কাজ করতে বলা। কিন্তু কেন? দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য ইস্যুতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল সেগুলি ছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ সমর্থিত। তবে আমেরিকার জারি করা নিষেধাজ্ঞা তেমন নয়। এগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির চাপানো একতরফা নিষেধাজ্ঞা। এগুলো যে-সব দেশের বিরুদ্ধে জারি করা হয় সেগুলি ওই সব দেশ এই হুকুমদারি মানে না। যেমন কিউবা, ইরান কিংবা ভেনেজুয়েলা। জোর করে এসব হুকুম মেনে চলতে বাধ্য করা মানে দেশগুলিকে তাদের নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করা। মানে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থকেই দেখা। কিছু বড় বড় নীতি কার্যকর করার নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন দেশকে বাগে আনতে কোনোরকম রাখ-ঢাক করছে না। এই দেশগুলিকে প্রকাশ্যে এবং স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে যাতে তারা নিজেরা মূল্য চুকিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের সেবা করে।
৫০শতাংশ শুল্কের নামে এই সাম্রাজ্যবাদী মাতব্বরি দেশ মেনে নিতে পারে না। এবারের মিছিল, সভার এটি অন্যতম কারণ।
---------------------------------------
কেন ১ সেপ্টেম্বর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। নাৎসি জার্মানি আক্রমণ করে পোল্যান্ড। পোল্যান্ড আক্রমণ আসলে ছিল সোভিয়েত আক্রমণের মুখবন্ধ। জার্মানির হাতে সোভিয়েত সরাসরি আক্রান্ত হয় ১৯৪১ সালের ২২ জুন। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ই বিশ্বজুড়ে, এমনকি তৎকালীন ভারতের মতো উপনিবেশগুলিতেও ফ্যাসিবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত। যুদ্ধোত্তরকালে বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শান্তি ও সংহতি আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় এভাবেই। লেখক শিল্পী, বুদ্ধিজীবী সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসেন।  বিশ্বজুড়ে শ্রমিক শ্রেণি শক্তি জোগায় শান্তির সংগ্রামে। 
১৯৮০-র দশকের গোড়ায় রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগনের আমলে আমেরিকা আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে শুরু করলে শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণের সপক্ষে ১ সেপ্টেম্বর দিনটি বিশ্বব্যাপী উদ্‌যাপন করার আহ্বান জানায় ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস। ১৯৮২সালের ১০-১৫ ফেব্রুয়ারি কিউবার রাজধানী হাভানায় অনুষ্টিত দশম বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয় পয়লা সেপ্টেম্বর দিনটিকে ‘ডে অব ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাকশনস ফর পিস অ্যান্ড ডিসআর্মামেন্ট’ (শান্তি এবং নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে ট্রেড ইউনিয়নগুলির কর্মসূচি পালন দিবস’) হিসাবে পালনের ডাক দেয়। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর সাম্রাজ্যবাদের বর্ধিত আগ্রাসনের পর্বে ১ সেপ্টেম্বর পালনের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পয়লা নম্বর শত্রু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশনীতি পৃথিবীর অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন ও গাজা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ইউক্রেনে তিনি দাবি করছেন যে, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালাচ্ছেন। গাজার ক্ষেত্রে তিনি চাইছেন ওই এলাকা থেকে প্যালেস্তিনীয়দের জাতিগতভাবে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়কের কথায়,‘‘এবিষয়ে সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের সামনে দুটো পথ খোলা রয়েছে। এক, ইউক্রেন যুদ্ধকে বিপর্যয়কারী অবস্থার দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া, এমনকী পরমাণু সংঘাতের বিন্দু পর্যন্ত। নয়ত সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের ধীরে লয়ে ক্ষয়প্রাপ্তিকে মেনে নেওয়া। ডোনাল্ড ট্রাম্প এরকম একটা অসম্ভবপ্রায় কোণঠাসা অবস্থা থেকে সাম্রাজ্যবাদকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।  তিনি ‘যুদ্ধের পক্ষে’ নাকি ‘শান্তির পক্ষে’, বিষয়টা এরকম নয়।...তিনি একটা বিকল্প সাম্রাজ্যবাদী নীতি কার্যকর করতে চাইছেন যা সাম্রাজ্যবাদকে কানাগলি থেকে উদ্ধার করবে।’’
সাম্রাজ্যবাদকে পুনর্জীবিত করে তোলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কৌশলের মানে হলো অন্যের কেকটা দখল করে খেয়ে নাও। অন্যদের ওপর শুল্ক চাপিয়ে মার্কিন নেতৃত্ব জাহিরের চেষ্টা আসলে হলো বাকি বিশ্বের নিরিখেই প্রতিবেশীকে নিঃস্ব করার নীতি গ্রহণ। এর মানে হলো অন্যদের বাজার কেড়ে নিয়ে একজনের বাড়বাড়ন্ত। এটা সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রকল্প, তার পক্ষে মৌলিকভাবেই ক্ষতিকর। যদি বাইডেন সাম্রাজ্যবাদকে এক অন্ধ কোণায় নিয়ে গিয়ে ফেলে থাকেন, সেখান থেকে বেরোনোর জন্য ট্রাম্পের এই প্রয়াস সাম্রাজ্যবাদকে উল্টোদিকের অন্ধ গলিতে নিয়ে গিয়ে ফেলবে।

 

Comments :0

Login to leave a comment