SIR hearing

‘নো ম্যাপিং’এর শুনানিতে গরহাজির তিন লক্ষাধিক

রাজ্য

সাড়ে তিন লক্ষের ওপর ‘আনম্যাপড’ ভোটার হাজির হননি শুনানিতেই! চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই অনিশ্চিত খসড়া তালিকায় থাকা ১০ শতাংশ ভোটার।
শুনানিতে নো ম্যাপিং ভোটারদের মধ্যে ১০ শতাংশের অনুপস্থিত থাকার কারণ কী তাহলে ভুয়ো ভোটার? কিন্তু শুনানির আগে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই সব ভোটারদের কাছেই কমিশন এনিউমারেশন ফরম পৌঁছে দিয়েছিল। সেই এনিউমারেশন ফরম পূরণ করেই ভোটাররা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিএলও’দের কাছে জমাও দেয়। তার ভিত্তিতে কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এখন এনিউমারেশন ফরম পূরণ করার পরও সেই ভোটার কেন শুনানিতে আসতে পারলো না, প্রশ্ন তা নিয়েই। 
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছিল ৩২ লক্ষ ভোটার এনিউমারেশন ফরমে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। কমিশনের খাতায় এই ‘নো ম্যাপিং’ চিহ্নিত ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য কমিশনের নির্ধরিত নথি নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে যেতে হচ্ছিল ভোটারদের। ৩২ লক্ষ ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারদের শুনানির কাজ শেষ করেছে বলে দাবি করছে নির্বাচন কমিশন।
আর সেই শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পরই কমিশনের নজরে এসেছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ‘নো ম্যাপিং’ ভোটাররা শুনানিতে উপস্থিতই হননি। এখন প্রশ্ন এটাই, শুনানি কেন্দ্রে না আসা ভোটারদের কাছে কী কমিশনের তরফ থেকে বিএলও’রা নোটিস পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন? কমিশন জানিয়েছে, নোটিস পাওয়ার পর তাঁরা অনুপস্থিত। এখন প্রশ্ন কাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল শুনানির নোটিস? 
তবে শুনানিতে উপস্থিত না থাকার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে কমিশন এখনই কিছু বলতে চাইছে না। তবে ২০০২ সালের সঙ্গে কোনোভাবে ম্যাপিং না করতে পারা ভোটারদের মধ্যে ১০ শতাংশ ভোটারদের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পিছনে ভুয়ো ভোটারদের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে কমিশনের আধিকারিকরা মনে করছেন। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রে এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই যেভাবে ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব কমিশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসে তাতেই ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব এড়িয়ে যেতে পারছে না কমিশনের কর্তারাই। 
আবার নো ম্যাপিং হওয়ার দরুন শুনানির ডাক পাওয়া মানুষেরদের মধ্যে গ্রাম ও শহরের বস্তিবাসী প্রান্তিক মানুষও আছেন। তাঁদের কাছে শুনানিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তুলে দেওয়ার কিছু না থাকায় অনুপস্থিত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈধ ভোটার হওয়ার পরও স্রেফ নথি না থাকায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কাও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। শুনানিতে অনুপস্থিত ভোটারদের জন্য এখনও অবশ্য উপস্থিত হওয়ার সুযোগ আছে বলে কমিশন জানিয়েছে। 
কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানির সময় দেওয়া আছে। কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ‘‘ কমিশন ৩২ লক্ষ নো ম্যাপিং ভোটারদের শুনানির কাজ শেষ করলেও উপস্থিত না হওয়া ভোটারদের এখন শুনানিতে নথি নিয়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ আছে। তবে তারজন্য অনুপস্থিত ভোটারদের বিএলও মারফত আবেদন করতে হবে।’’ 
রাজ্যে ৩২ লক্ষ নো ম্যাপিং ভোটারদের শুনানির কাজ শেষ করে এখন পারিবারিক সূত্র ধরে এনিউমারেশন ফরম পূরণ করে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি চিহ্নিত ভোটারদের শুনানি চলছে। কমিশনের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ৩২ লক্ষ ভোটারের শুনানি শেষ হওয়ার পর এখন তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্য নথি আপলোড করার কাজ করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সেই নথি আপলোড হওয়ার পর জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা যাচাই করার জন্য পাঠাবে। কিন্তু শুনানি শেষ হলেও সেই নথি যাচাইয়ের হাল খুবই করুণ বলে কমিশন জানাচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment