অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি
সারা ভারত কৃষক সভার দার্জিলিঙ জেলা ২৮তম সম্মেলন রবিবার কমরেড অনিল সাহা মঞ্চ (সমবায় ভবন) এবং কমরেড প্রদীপ দেব ও কমরেড বীরেন নন্দী নগর (বিধাননগর)—এ প্রকাশ্য সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে। পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ্য সমাবেশ শুরু হয়। সম্মেলনে মোট ২৩৫জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ্য সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কে বি ওয়াতার। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমল হালদার। গত ২০২০সালে লকডাউন পরিস্থিতিতে খড়িবাড়িতে সংগঠনের ২৭তম সম্মেলন হয়েছিলো। প্রয়াত কমরেড অনিল সাহা, কমরেড প্রদীপ দেব ও কমরেড বীরের নন্দীর পরিবারকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় এদিনের প্রকাশ্য সমাবেশে। এদিন প্রকাশ্য সভা শুরুর আগে ভিমবার থেকে একটি মিছিল বের হয়ে এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিধান নগর বাজার এলাকায় প্রকাশ্য সমাবেশ স্থলে এসে শেষ হয়।
প্রকাশ্য সমাবেশ শেষে এদিন প্রতিনিধি সম্মেলনের কাজ শুরু হয়। কেবি ওয়াতার, হীরালাল ছেত্রী, নিরোধ সিংহ, মোহন ছেত্রী, সুশীল দেবনাথ ও পার্বতী সিংহ -কে নিয়ে গঠিত সভাপতি মন্ডলী সম্মেলনের কাজ পরিচালনা করেন। রাত পর্যন্ত চলে সম্মেলনের কাজ। সোমবার সম্মেলন শেষ হবে।
প্রতিটি ব্লকে কৃষক সহায়তা কেন্দ্র খোলা, ই—চাষ, আবহাওয়া পূর্বাভাস ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সুযোগ নিশ্চিত করা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করে দালালমুক্ত বাজার তৈরি, কৃষকের জন্য বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে ফসল বিমা চালু, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ত্রাণ, ঋণ মুকুব ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার মতো দাবি তুলেছে কৃষকসভা। মোট ১৮দফা দাবি সম্বলিত প্রস্তাব সম্মেলনে উত্থাপন করে সংগঠনের দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক ঝরেন রায়।
প্রকাশ্য সমাবেশে অমল হালদার বলেন, চালের দাম হু-হু করে বাড়ছে। আলু চাষ বিপন্ন। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ক্ষতির মুখে পড়ে পাট চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের ষড়যন্ত্র দুর্নীতি আর চুরির ফল ভুগছেন কৃষকেরা।
হালদার বলেন, দোকান বাজারে মানুষের ভিড় কমছে। আর দুই সরকার প্রতিদিন মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে কৃষি উৎপাদনশীলতা ক্রমশ কমছে। শাক সবজি, মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রগতি ঘটেছিল বামফ্রন্ট সরকারের সময়। আর এই সময় ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবাংলা। সার, কৃষি বীজ নিয়ে কালোবাজারি হচ্ছে। ফল স্বরূপ সারের দাম উর্ধ্বমুখী। তৃণমূলের নিচু তলা থেকে উচু তলা পর্যন্ত সকলেই দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক। আর অন্যদিকে যোগ্য চাকরি প্রার্থীরা রাস্তায় আর অযোগ্যরা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছে তৃণমূলের সময়।
Comments :0