বইকথা
নতুনপাতা
--------------------------------------------------------------------------------
বন্দে মাতরম: মিলবে অনেক প্রশ্নের উত্তর
--------------------------------------------------------------------------------
কৃশানু ভট্টাচার্য্য
২০২৬ এপ্রিল ২০
সাম্প্রতিককালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দে মাতরম সংগীত কে কেন্দ্র করে বেশ কিছু মিথ্যা ভাবনা আমাদের সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে প্রথম বিতর্ক তৈরি হয় গানটি কবে লেখা? গবেষক পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় নৈহাটি বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বইতে জানাচ্ছেন যে ১৮৭৬ সালের আগে সম্ভবত ১৮৭৫ সালে এই গানটি লেখা হয়েছিল। এর পরবর্তী বিতর্কের বিষয় ছিল গানটি কোথায় লেখা? কেউ কেউ দাবি করেন, গানটি লেখা হয়েছিল নৈহাটিতে। অনেকের দাবি , গানটি লেখা চুঁচুড়া কিংবা লালগোলায়। পার্থ প্রতিম বাবু বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবার পরে জানাচ্ছেন যে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ার বাড়িতে বসেই বন্দেমাতরম গানটি রচিত হয়েছিল। এরপরের বিতর্ক গানটির ভাব এবং মর্মার্থকে কেন্দ্র করে। বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন, এ গানের মর্ম তোমরা এখন বুঝতে পারবে না যদি ২৫ বছর জীবিত থাকো তখন দেখবে এই গানে বঙ্গদেশ মেতে উঠবে। একটি গান বিভিন্ন কারণে সারা ভারতবর্ষের মানুষকে জাতীয়তাবাদের আদর্শে দীক্ষিত করেছিল। সে কারণেই অনেকে একে একে দেশপ্রেমের গান বলে চিহ্নিত করেন। যদিও এই গানটি জনপ্রিয় করবার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল। রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন এই গানের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মাতার বন্দনা করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ অবনীন্দ্রনাথ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ঋষি অরবিন্দ, ব্যারিস্টার পি মিত্র লালা লাজপৎ রায় সহ জাতীয় আন্দোলনের নেতারা এই গানটিকে বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন, এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই গানটিকে অনুবাদ করেছেন। ১৯৩৭ এ বন্দে মাতরম এর প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ২৪ শে জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন , জনগণমন-অধিনায়ক গানের সঙ্গে সঙ্গে বন্দেমাতা্রম কেও জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে সমমর্যাদা দেওয়া হবে।
বন্দেমাতরম প্রসঙ্গে এ ধরনের অজানা নানা কথা জানবার জন্য পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় এই বইটি সকলের অবশ্য পার্থ হতে পারে। বইটির উল্লেখযোগ্য সংযোজন কতগুলি দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র, শ্রী অরবিন্দ, রাজনারায়ণ বসুর করা গানটির ইংরেজি অনুবাদ ও বঙ্কিমচন্দ্রের জীবৎকালে বন্দে মাতরমের সংগীতে সুর যোজনা এবং পরিবেশনের ইতিহাস।
আশা করি পাঠক এই গ্রন্থ পাঠে তথ্যের দিক থেকে বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ হবেন।
বন্দে মাতরম- কাল ও রচনা ক্ষেত্রে কিছু অনুক্ত তথ্য
পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র নৈহাটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা
Comments :0