Post Editorial

ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে...

সম্পাদকীয় বিভাগ

ঈশিতা মুখার্জি
 

বাংলার সাধারণ মানুষ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে এবার সরাসরি প্রতিদ্বদন্দিতা করছে ক্ষমতার আস্ফালন এবং মাফিয়ারাজের সঙ্গে,ধর্মীয় মৌলবাদ এবং দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের সঙ্গে। গত ১৫ বছর ধরে বাংলার সাধারণ মানুষকে প্রায় পণবন্দি করে রাখা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস দলের শাসন এবং দিল্লির মসনদে বিজেপি’র শাসন সাধারণ মানুষের জীবনকে বাজি রেখে, তাদের ভবিষ্যৎকে ঢাল করে কোটিপতি কর্পোরেটের এবং নিজেদের পকেট ভারী করেছে। এটাই তাদের রাজনীতি। এই রাজনীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা আক্রান্ত হয়েছে। দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ লুট করেছে এই চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি। ২০১১ সালে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল মানুষের রায়ে বামফ্রন্ট সরকার। সেদিন যারা একজোটে বামবিরোধী প্রশাসন দেবে বলেছিলেন জনসাধারণকে, সেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি আজ মানুষের সামনে, মিডিয়ায় সম্মুখ সমরে, বাইনারি পলিটিক্সে। কিন্তু দক্ষিণপন্থী এই বাইনারি তো সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে দিয়েছে এতদিনে।
মানুষ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত কেন করে এই প্রশ্নের উত্তরই ২০১১ সালের পর পালটে গেল, উলটে গেল। এখন অভিজ্ঞতার ফলে সাধারণ মানুষ এ রাজ্যে বুঝলেন যে সরকার নামে প্রতিষ্ঠানের নাকি কোনও ক্ষমতা নেই। শূন্য পদে চাকরি কেন নেই, সরকার জানে না। যারা চাকরি করে তারা ডি এ কেন পায় না, সরকার জানে না। স্কুলগুলো একের পর  এক বন্ধ কেন হয়ে যায় সরকার বলতে পারে না। বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর ফি চড়া হলে সরকারের কিছু করার থাকে না। কেউ অসুস্থ হলে একের পর এক সরকারি হাসপাতালে রেফার কেন করা হয় এবং রুগী ও তার পরিবারের মানুষজন কেন নাজেহাল হয় সরকার জানে না। বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে খরচা বাড়লে সরকারের কিছু করার থাকে না। আলুচাষি, পেঁয়াজচাষি দাম না পেয়ে রাস্তায় ফসল ছড়িয়ে ফেলে আত্মহত্যার পথ নিলে, সরকারের নাকি কিছু করার থাকে না। কৃষক আত্মহত্যার তথ্য রাজ্য সরকার জানায় না কারণ সরকারের ভাষ্যে তাঁরা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে আত্মহত্যা করেছিলেন। এর সঙ্গে ফসলের দাম না পাওয়ার সম্পর্কের কথা সরকার জানে না। এই কথা বাংলায় বলছে তৃণমুল কংগ্রেস সরকার আর কেন্দ্রে বলছে বিজেপি সরকার। আশা কর্মীরা প্রাণপাত কাজ করে মানুষের জীবন রক্ষা করেছিলেন, তাদের সামান্য ভাতা বাড়াতে অক্ষম আজ তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দল। যে শ্রম কোড শ্রমিকের অধিকার স্বীকার করে না, তাকে মেনে চলছে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস।  ব্যাখ্যায়, ভাষায় এই দুটি দলের তফাৎ নেই। তাই তো ২০১১ সালে তারা বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে একজোটে ছিল। মাঝের বছরগুলিতে নাটকের দৃশ্যে আপাত সংঘাত দেখানোর মুল উদ্দেশ্য একটাই– মিডিয়া এবং প্রকাশ্য রাজনীতির ময়দানে বাম রাজনীতিকে জায়গা না দেওয়া। কিভাবে স্বীকার করবে বাম রাজনীতিকে তারা? কর্পোরেটের নির্বাচনী বন্ডের অর্থের জোরে তারা সরকার এবং দল চালায়। কাজেই আদানি-আম্বানি যা চাইবে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি সেই কাজ করবে, সাধারণ মানুষের কাজ করার জন্য এই দুটি দল ভোটে দাঁড়ায় না, বামপন্থীরা মাঝখানে থাকলে এদের তাই অসুবিধা হয়। সাধারণ মানুষ বুঝে নিয়েছে যে সরকারের কোথাও কিছু করার নেই। বিধানসভার বিধায়কদের বেশির ভাগ যদি কোটিপতি হয়, কোটিপতিদের স্বার্থেই তো তারা কথা বলবে, সাধারণ মানুষের স্বার্থ পিছনে চলে যাবে। 
এই দ্বৈত কর্পোরেট পূজারিদের শাসনে সাধারণ মানুষ তাই ভুলতে বসেছে সরকার কি করতে পারে আর পারে না। সরকারের বাজেটে তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, গণপরিবহণ, রেলপথ, বিদ্যুতের দাম, রেশন -এসব কিছুই থাকে না। সাধারণ মানুষের হাত থেকে এগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত টাকা কোথায় পাবে সাধারণ মানুষ বেসরকারি স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। প্রশ্ন উঠবে বলে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা বলছে যারা সরকারে আসীন। এমনকি ভোট প্রচারে দাঁড়িয়ে তারা এই ক্যাশ ট্রান্সফার নীতির কথাই বলছে। পৃথিবীতে অনেক দেশেই আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে সাধারণ মানুষকে ক্যাশ ট্রান্সফার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এর সঙ্গে সরকারের কাজ থাকে রাজ্যের কৃষি, শিল্পের উন্নতি ঘটানো। ১৫ বছরে কৃষকের এই হাল হলো কেন? কেন একটিও শিল্প হলো না এ রাজ্যে? যে তাজপুর বন্দরের কথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বাজেটে বলছে, তার পরিকল্পনা হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে। ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বাধাদানের কথা আজ সকলে জানে। কৃষিতে মান্ডিগুলো নীল সাদা রং হয়েছে, কিন্তু কৃষকের কোনও কাজে আসছে না। ওদিকে রেশনে কেলেঙ্কারি, কয়লা, বালিচুরি, সারদা কেলেঙ্কারিতে ক্ষতি হয়ে গেছে সাধারণ মানুষের। ব্যাপক লুট, কাটমানির টাকা তো এসেছে সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই। বিজেপি শাসিত রাজ্যেও ঘটে এরকম দুর্নীতি। স্কুল চাকরি দুর্নীতিতে টাকার অঙ্ক, সারদা কেলেঙ্কারিতে টাকার অঙ্ক দেশে বৃহৎ আকারের আর্থিক দুর্নীতির সমান। এই বিপুল পরিমাণে আর্থিক দুর্নীতির অর্থ মানুষের পকেট থেকেই এই টাকা চুরি হয়েছে। এছাড়া যে উন্নয়ন এবং বিকাশের কথা সাধারণ মানুষ প্রচারে শুনতে পায়, সেই অর্থ দিয়ে না হয়েছে উন্নয়ন না হয়েছে বিকাশ। সবটাই চলে গেছে বিজেপি তৃণমূলের নেতাদের পকেট ভরাতে। তাই ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সরকারের কিছু করার আছে। 
দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে সরকারের কিছু করার থাকে না। ঘটে যায় ব্যস্ততম রাস্তার মোড়ে ব্যস্ততম হাসপাতালে ডাক্তারের ধর্ষণ এবং খুন— আর জি কর। ঘটে যায় আইন কলেজে ছাত্রীর যৌন হেনস্তা। এগুলো ঘটলেও দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ে না এবং তারা শান্তিতে শাসকের ছত্রছায়ায় থাকে। যারা ভোটে জিতেছিল, তারা কর্পোরেটের স্বার্থ দেখেছে, তারা দুষ্কৃতীদের স্বার্থ দেখেছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখেনি, দেখবার কথা ভাবেনি। তাই সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাকে বলি দিয়েছে এই শক্তিগুলি। তাদের ভয় দেখিয়ে, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে, ক্ষুদ্র ফিনান্স কোম্পানির বাউন্সারে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে পারে। কারুর চাকরি হয় না, চুক্তিভিত্তিক কম মজুরিতে নিয়োগ হয়, ত্রাসের রাজত্বে তার মুখ বন্ধ করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ে। তাই রাজ্য ছেড়ে যুবদের পালাতে হয় । তাই ছোট ছোট মেয়েরা পাচার হয়ে যায়। পালাতে হবে এ রাজ্য থেকে,পালাতে হবে। প্রায় প্রতিদিনের খবর পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে আসছে রাজ্যে। 
কতদিন চলবে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই বাজি? ২০২৬ সালে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ সরাসরি মুখোমুখি এই প্রশ্নের সামনে। এ রাজ্যে কিছু কি হওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এবার সুযোগ এসেছে রাজ্যের মানুষের। এ প্রশ্নের উত্তর এবার না খুঁজলে আর উত্তরের সুযোগ কবে পাবে সাধারণ মানুষ? সাধারণ মানুষের উত্তর খুঁজছে, তাই তো এস আই আর করে নাম বাদ পড়ছে মানুষের। সাধারণ মানুষ উত্তর খুঁজছে তাই তো ধর্ম জাত পাতে মানুষকে ভাগ করছে বিজেপি। হিন্দু ধর্ম বা যে কোনও ধর্মীয় পরিচয় আর হিন্দুত্বের রাজনীতি যা গুজরাট দাঙ্গার স্মৃতি উস্কে দেয় সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্যের মানুষ উত্তর খুঁজবে কারণ এতদিনে তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। গ্রামে আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ সরকার, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন চাষের খরচ কমানো, সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব সরকারের পক্ষ থেকে। বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব সরকারের পক্ষ থেকে। গ্রামে অ-কৃষি উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উদ্যোগী গড়ে তোলা সম্ভব সরকারের পক্ষে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে রাজ্য ছিল এক নম্বরে। অনেক কৃষি পণ্য উৎপাদনে, মৎস্যচাষে রাজ্য ছিল এক নম্বরে। এখানে সরকারি সহায়তায় উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। গ্রামীণ শিল্পে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এগনো সম্ভব। শহরে সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ সম্ভব। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রেখে সজীব করা সম্ভব। ছাত্র-ছাত্রীরা এ রাজ্যে থেকেই লেখাপড়া শিখতে পারবে যদি শিক্ষক নিয়োগ হয়। শিল্পে বিনিয়োগ আনতে পারেনি সরকার। কোথায় অভাব? সদিচ্ছার। দুষ্কৃতীবাহিনী এবং সমাজবিরোধীদের আখড়া থাকলে কেউ কোনও প্রতিষ্ঠান গড়তে এগিয়ে আসে না। সরকার যদি দুষ্কৃতীদের সহায়তা না করে, দুষ্কৃতীরা যদি শাস্তি পায়, আইন শৃঙ্খলা— যা একমাত্র সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে– যদি বজায় থাকে তাহলেই কোনও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের জন্য রাজ্য সরকার যে বাজেট তৈরি করে তাতে ক্যাশ ট্রান্সফার প্রকল্পের কথাই শুধু থাকে। বিজেপি সরকারের কেন্দ্রের বাজেটে আবার রেগা, তফসিলি জাতি উপজাতি, নারী ও শিশু, সংখ্যালঘু এইসব দপ্তরে বছর বছর টাকা কমিয়ে দিয়ে চটকদার কিছু প্রকল্প থাকে যাকে আর পরের বছর পাওয়া যায় না। নির্বাচনী প্রচারে এই প্রকল্পই এই দলের তুরুপের তাস। কিন্তু প্রকল্প তো সব সরকার রাখে তার বাজেটে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র,রাস্তাঘাট, গণপরিবহণ, এগুলো থেকে নির্বাচিত সরকার মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। সাধারণ মানুষ বোঝে যে এগুলো সরকারের কাজ। মন্দির করা সরকারের কাজ নয়। তাই আদায় করা করের টাকায় সত্যিই জনকল্যাণ করা সম্ভব যদি সেই টাকা শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রাস্তাঘাটে ব্যয় হয়। লুট, দুর্নীতি আসলে এই কেন্দ্রগুলি থেকে অর্থ লুট। সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে বুঝেছে যে আসলে জনকল্যাণ সম্ভব। বাংলার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব যদি নির্বাচিত সরকার চায়। নির্বাচিত সরকার যদি চায় এগুলো না হয়ে শুধুমাত্র মানুষের হাতে অর্থ গুঁজে দিয়ে তাকে খোলা বাজারে ছেড়ে দিতে, সরকার খোঁজ নেবে না সে খেতে পাচ্ছে কি না, তার ঘর বাড়ি আছে কিনা, তার পরিবারে কেউ অপুষ্টিতে ভোগে কি না।
দায় এড়িয়েছে নির্বাচিত সরকার। দায় এড়িয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সাধারণ মানুষ গড়ে তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছে যে বাংলার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। যদি সরকার চায় দাঙ্গা হবে না।– বলেছিলেন এ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যদি সরকার চায় স্কুল কলেজ হবে, ক্লাসরুমে শিক্ষক পড়াবে, হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, রাস্তা বেহাল হবে না, গণপরিবহণ বাস-ট্রেন চালু থাকবে। রাজ্যের সাধারণ মানুষ বুঝেছে রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কারণ সরকার চেয়েছে রাজ্য ধ্বংস হোক। তাই বিজেপি’র অস্ত্র এস আই আর-এ নাম বাদ দেওয়া, তৃণমূলের অস্ত্র সন্ত্রাস সৃষ্টি। সাধারণ মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ তাই আজ নিজে গড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এটা আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে রাজ্যকে ধ্বংস করা হয়েছে পরিকল্পনা করে নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছায় কেন্দ্রের সরকারের সহায়তায়। সুষ্ঠু উন্নয়নের পরিকল্পনা মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আজ সাধারণ মানুষের সুযোগ আছে চোখের সামনে এনে দেওয়ার। ভোট দেওয়া মানুষের কাজ, কিন্তু নির্বাচিত সরকারেরও কিছু করার আছে ! সাধারণ মানুষ নিজের অন্তরে ভাবছে সেই সরকারের আদল কেমন হবে, যে সরকার কাজ করবে। সমাজের ভিতরে এই নতুন সরকারের সম্ভাব্য চেহারা তৈরি হচ্ছে। সরকার থাকা সম্ভব , সরকারি প্রয়াস সম্ভব- এগুলো কোনটাই অসম্ভব নয়।  

Comments :0

Login to leave a comment