West Bengal Elections

বাম প্রার্থীর সমর্থনে ধূপগুড়িতে লাল সমুদ্র

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

‘‘গোটা রাজ্য আজ নৈরাজ্যে ডুবেছে। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে বিধানসভায় সৎ , শিক্ষিত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। আর সেই লক্ষ্যেই ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী নিরঞ্জন রায়কে জয়ী করতে হবে।’’ সোমবার ধূপগুড়িতে এক বিশাল রোড-শো ও মহামিছিলে অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানান ধূপগুড়ির সাধারণ মানুষ।
এদিন ধূপগুড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী নিরঞ্জন রায়ের সমর্থনে এক অভূতপূর্ব লাল পতাকায় মোড়া মিছিলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় শহর। মিছিল শেষে আয়োজিত সভায় জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র বলেন, ‘‘এবারের লড়াই স্রেফ একটা ভোট নয়, ধূপগুড়িকে বাঁচানোর লড়াই। তৃণমূল এবং বিজেপি রাজনীতির নামে যা চালাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছেন, এই দুই শক্তিই রাজ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর। আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিকল্প খুঁজছেন এবং সেই বিকল্প একমাত্র বামপন্থীরাই। বামপন্থীরাই পারে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দিতে।’’
সোমবার বিকেলে বৈরাতিগুড়ি স্কুলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে লাল ঝান্ডা, ফেস্টুন আর বেলুন নিয়ে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ শহরের প্রধান প্রধান পথ পরিক্রমা করেন। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে ফুটে ওঠে— ‘বাংলা বাঁচাতে, কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে তৃণমূল-বিজেপিকে পরাস্ত করুন’। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে মিছিলকে অভিবাদন জানান।
মিছিল শেষে ফালাকাটা রোডে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রার্থী নিরঞ্জন রায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘বামপন্থীদের জয়ী করলে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম এবং শ্রমিকের সঠিক মজুরি সুনিশ্চিত হবে।’’ চা-বাগান এলাকার সমস্যা, ১০০ দিনের বকেয়া মজুরি নিয়ে নেতৃত্বের বক্তব্যে এদিন তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সুর ছিল অত্যন্ত তীব্র। প্রার্থী আরও যোগ করেন, ‘‘মানুষ তাঁর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝছেন এই নীতি বদলের কাজ বামপন্থীরাই পারবে। প্রতিটি পরিবারে একজনের স্থায়ী কাজ, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৭০০ টাকা, মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা, রাস্তাঘাট, চাহিদা অনুযায়ী আবাস যোজনা, বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা সহ সমস্ত সামাজিক ভাতা সচল করার লড়াই আমরা করছি।’’ ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট বা কৃষক বাজারকে বাঁচানোর দাবিও এদিন জোরালোভাবে উঠে আসে প্রার্থীর গলায়।
এদিনের কর্মসূচিতে জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র ছাড়াও পা মেলান জেলা নেতৃত্ব সলিল আচার্য, তুষার বসু, মমতা রায়, মুকুলেশ রায় সরকার, নূর আলম, প্রাণ গোপাল ভাওয়াল প্রমুখ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৩ এপ্রিল ভোটের আগে ধূপগুড়ির এই মহামিছিল বামেদের পালে নতুন হাওয়া তুলল। চা-বাগান ও গ্রামীণ কৃষক অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ‘মাটি কামড়ে’ প্রচারের যে কৌশল বামেরা নিয়েছে, সোমবারের ভিড় তারই প্রতিফলন। মিছিলে আসা মায়া রায়, সোমা মন্ডল, মাফুজা বেগমদের চোখেমুখে ফুটে উঠছিল জানকবুল লড়াইয়ের জেদ। মিছিল থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান ওঠে— ‘বাংলা বাঁচানোর লক্ষ্যে, ধূপগুড়ি কৃষক বাজারের স্বার্থে কমরেড নিরঞ্জন রায়কে জয়ী করুন।’

Comments :0

Login to leave a comment