উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস পিলিভিট সদর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ১৩,১৫০ জন ভোটারের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, অথচ তাঁদের এপিক নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই ভোটদাতাদের বেশিরভাগই আবার মুসলিম।
লক্ষ্ণৌয়ে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে, উত্তর প্রদেশের জন্য এআইসিসি -র দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজেন্দ্র পাল গৌতম অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে যার মাধ্যমে "যে কোনও ব্যক্তিকে হারানো যায় এবং যেকোনো ব্যক্তিকে জিতিয়ে দেওয়া যায়"।
তিনি দাবি করেন, ১০ এপ্রিল ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’(এসআইআর) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভোটারদের তথ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে অথচ তাঁদের এপিক নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর একই রাখা হয়েছে।
গৌতম বলেন, "একজন ভোটার চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় নিজের নাম, ঠিকানা, এপিক নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর দেখে মনে করেন যে তাঁর ভোটটি সুরক্ষিত। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে যদি তাঁর নাম বদলে দেওয়া হয়, তবে ভোটগ্রহণের দিন তাঁকে হয়তো বলা হতে পারে যে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই যদিও তাঁর কাছে এপিক কার্ড ও পরিচয়পত্রের প্রমাণ রয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, পিলিভিট সদরে ১৩, ১৫০ জন ভোটারের নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে, ভোটাররা সেখানে বসবাস করা সত্ত্বেও ৮৮৪ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এমন ২,৬০০ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যারা সম্ভবত ওই এলাকায় থাকেন না। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে মোট ১৬,৫৫৪টি ভোটের ক্ষেত্রে কারচুপি করা হয়েছে।
গৌতম জানিয়েছেন যে, কংগ্রেস কর্মীরা বুথভিত্তিক এমন ঘটনার তালিকা প্রস্তুত করছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতেও হয়তো একই ধরনের অনিয়ম হতে পারে।
এই ধরণের একাধিক তথ্য রোজই প্রায় সামনে আসছে। তবুও, জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করে চলেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এরই প্রতিবাদে, শুক্রবার ফের জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে রাস্তায় নেমেছে একাধিক বামপন্থী সংগঠন।
এদিকে উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব বলেছেন, পিলিভিটের ভোটচুরি ধরা পড়ায় দুই ইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনই দায়ী। সারা দেশে কারচুপি ধরা পড়ার পর কেন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
‘Pilibhit model’ of vote-rigging
নজরে ‘ভোটচুরির পিলিভিট মডেল’! চূড়ান্ত তালিকায় বদলালো নাম
×
Comments :0