Mid-day meal workers

মিড ডে মিল রন্ধন কর্মীদের ডেপুটেশন বসিরহাটে

জেলা

বিজেপি এসে আমাদের রান্নার কাজ থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। জানালেন গোবিলা কাজী নজরুল ইসলাম স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পের রন্ধন কর্মী শাকিলা বিবি ও সায়েরা বিবি। মাটিয়া হাইস্কুলেও একই সমস্যা। জানান মমতাজ মণ্ডল ও ফিরোজা বিবি।
২৫ জনে ১জন রান্না করবে। এমনিভাবে বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকে ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যার অনুপাতে রান্নার কাজ করে আসছিল গ্রুপগুলি। তৃণমূল সরকারের আসার পর গোষ্ঠীর সদস্য নয় এমন মহিলাদের জোর পূর্বক রান্নার কাজে নিয়োগ করতো পঞ্চায়েত প্রধানরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় শুরু হয় সমস্যা। ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর সমস্যা বেড়েছে। তারা প্রয়োজন ব্যতীত নতুন করে গ্রুপ তৈরি করে স্কুলে স্কুলে রান্নার কাজে নিয়োগ করছে। দিন দিন এই সমস্যা চরমে পোঁছাচ্ছে। সমস্যায় পড়ছেন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে নিয়োজিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি। এহেন সমস্যার সমাধানের দাবিতে এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে, উৎসব ভাতা, পরিচয় পত্র, অবসরকালীন ভাতা, ১০ মাসের পরিবর্তে ১২ মাসের বেতন সহ অন্যান্য দাবিতে শুক্রবার বসিরহাটের খোলাপোতায় পথে নেমে সোচ্চার হয় মিড ডে মিল প্রকল্পের রন্ধন কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন বসিরহাট -২ নম্বর ব্লকের উদ্যোগে এদিন ডেপুটেশনর মাধ্যমে বিডিও বিপ্লব বসাকের কাছে নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি জানানোর উদ্দেশ্যে এদিন মিছিল সভা হয়। সভাপতিত্ব করেন কৃষক নেতা বিশ্বনাথ দাস। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উত্তর ২৪পরগনার জেলা সম্পাদক শিবশঙ্কর ঘোষ, শ্রমিক নেতা বাপি দত্ত, অনাথ মণ্ডল, সেলিম মণ্ডল, হাসানুজ্জামান ও মহিলা নেত্রী আঞ্জুমান আরা। নেতৃবৃন্দ বলেন, মিড ডে মিল প্রকল্পের রন্ধন কর্মীদের সামান্য সাম্মানিক তাও তারা নিয়মিত পান না। স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকরা ১০ মাস কাজ করে ১২ মাসের মাইনে পায়। মিড ডে মিল কর্মীরা কেন পাবেন না? তারা সকাল ১০ টায় স্কুল খোলার সাথে সাথে স্কুলে পৌঁছে যায়। স্কুল শেষে বাড়ি ফেরে। সরকার সবার মাইনে বাড়ায় অথচ, মিড ডে মিল প্রকল্পের কর্মীদের সম্মানিক বাড়ে না। এমনিভাবে গরীব ঘরের মহিলারা বঞ্চিত হচ্ছেন বছরের পর বছর। তাদের পরিচয় পত্র, শ্রমিকের স্বীকৃতি, ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের সময় থেকে শুরু হয়েছে। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার তাকে বেসরকারীকরণ করতে ইসকনকে দায়িত্ব দিতে চাইছে। অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধান, সদস্যদের মন জুগিয়ে না চললে কাজ থাকে না। অনির্দিষ্টকালের জন্য বসিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে ঐক্যবদ্ধ লড়াই আন্দোলন একমাত্র পথ। সভা চলাকালীন কৃষক নেতা আমির আলির নেতৃত্বে ৮ জনের প্রতিনিধিদল দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন বিডিওর কাছে। ডেপুটেশন থেকে ফিরে এসে সভায় তার নির্যাস তুলে ধরেন সংগঠনের রাজ্য নেত্রী রুনা লায়লা জামান।

Comments :0

Login to leave a comment