Sreedip Bhattacharya on Kakababu

কর্পোরেট-হিন্দুত্বকে রুখতে পারে গণআন্দোলন: শ্রীদীপ ভট্টাচার্য

রাজ্য কলকাতা

বুধবার মহাজাতি সদনে মুজফ্‌ফর আহমদের ১৩৮ তম জন্মদিবসে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য।

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য

ভারতের বহুত্বের চরিত্রকে মানে না আরএসএস-বিজেপি। হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তানের বহুত্বকে ধ্বংস করতে চায়। তার জন্যই ইতিহাসকে বিকৃত করছে। যুক্তিবোধকে নষ্ট করে বিজ্ঞান মনস্কতাকে ধ্বংস করে দিতে। তার বিরুদ্ধে শ্রেণি আন্দোলন এবং গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 
বুধবার মহাজাতি সদনে মুজফ্‌ফর আহমদের ১৩৮ তম জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানালেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, আমরা একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। কমিউনিস্টদের বিশাল ভূমিকা নিতে হবে। প্রকৃত ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। মানুষকে সমবেত করে রাজ্যে ও দেশে লড়াই করতে হবে। কাকাবাবুর জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এটাই আজকের শপথ।
শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, সারা পৃথিবীতে নয়া উদারবাদের সংকট এখন স্পষ্ট। সেই পরিস্থিতিতে উদারবাদ চাইছে ভাষা লিঙ্গ জাতি ধর্ম বর্ণের ভিত্তিতে বিভাজন করতে। ভারত এবং গোটা বিশ্বে এর লক্ষণ স্পষ্ট। আরএসএস বিজেপি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে আরও। কর্পোরেট হিন্দুত্বের যে রাজনীতি, সেই রাজনীতির স্বার্থ রক্ষার্থেই তাদের হিংস্রতা ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাতেও সেই কাজ তারা একইভাবে শুরু করে দিয়েছে। 
সেই সঙ্গে কৃষক আন্দোলন এবং যন্তর-মন্তরের আন্দোলনের উদাহরণ দেন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, একমাত্র গণ-আন্দোলনে পারে এই শক্তিকে পিছু হটাতে। আমরা আগেও দেখেছি কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন তা পেরেছিল। কিছুদিন আগে ছাত্র যুবদের আন্দোলন শাসককে নাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে মানুষকে সমবেত করে। আরএসএস-বিজেপি’র চালানো কর্পোরেট হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই করেই কাকাবাবুকে সঠিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।
কাকাবাবুর জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার অন্যতম পুরোধা কাকাবাবু। ১৯১৭ সালে রাশিবায় নভেম্বর বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। সেই বিপ্লবের বার্তা সমগ্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভারতেও এসেছিল সেই বার্তা। স্বাধীনতা আন্দোলনে সেই বার্তার মধ্যে দিয়ে মার্কসবাদের প্রতি আকর্ষিত হয়েছিলেন অনেকে। কাকাবাবু ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। 
ভট্টাচার্য বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চায়নি ভারতে মার্কসবাদের চর্চা হোক। নানা কৌশলে তারা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের। নভেম্বর বিপ্লবের বিভিন্ন বার্তা যে বইয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সেই বইগুলি তারা সংগ্রহ করেছিলেন এবং চর্চা শুরু করেছিলেন মার্কসীয় মতবাদকে ধীরে ধীরে তাঁরা জীবনের সঙ্গে আত্মস্থ করেছেন। 
তিনি বলেন, কেন মার্কসবাদকে জীবনের পাথেয় করলেন ওই সময়ের কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা? এর অন্যতম কারণ হলো মার্কস বলেছিলেন যে দার্শনিকরা দুনিয়াকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আসল কথা হলো তাকে পাল্টানো। সমাজ বদলের লক্ষ্যেই তাঁরা মার্কসবাদী হয়েছিলেন। বহু আক্রমণ অত্যাচার হলেও টলানো যায়নি। 
তিনি বলেন যে শ্রমিকের লড়াই, কৃষকের লড়াই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছিল। স্বাধীনতার আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলনে পরিণত করতে পেরেছিল। কমিউনিস্টরা সেই কাজ করেছিল। সেই সময় আরএসএস-ও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আরএসএস কোনো দলিল দিয়ে প্রমাণ করতে পারবে না যে তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে কোনও অবদান রেখেছে।

Comments :0

Login to leave a comment