‘যারা দুর্নীতি করে গুন্ডারাজ রাখতে চাইছে তাদের আমরা হারাবোই।’ কোচবিহারে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমাবেশে বললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। শনিবার তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছে সিপিআই(এম)’এর বাংলা বাঁচাও যাত্রা। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে হয় সমাবেশ। বক্তব্য রাখেন মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখার্জি, অনন্ত রায় সহ অন্যান্যরা।
এদিন কোচবিহারে এক সিপিআই(এম) কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, ‘‘কোচবিহারে বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ করে অনেকে মনে করছে আমাদের দমিয়ে রাখবে। ভুল ভাবছে। আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। এই গুন্ডারাজ আমরা শেষ করবো।’’
উল্লেখ্য রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের। অনেকে জেলে গিয়েছেন আবার ছাড়াও পেয়েছেন। কোন তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সিপিআই(এম) নেত্রী বলেন, ‘‘যারা ভেবেছিল তৃণমূলকে একমাত্র বিজেপি হারাতে পারে তারা আজ বুঝছে দুই দলের মধ্যে সেটিং আছে। বিজেপির হাত মাথার ওপর আছে বলেই ভাইপো আজ জেলের বাইরে। অনুব্রত জেলের বাইরে, পার্থ জেলের বাইরে। বিজেপি চায় বলে তৃণমূল ক্ষমতায় আছে। এই লাল ঝান্ডাই একমাত্র তৃণমূলকে হারাতে পারে, সেই জন্য আমাদের এই যাত্রা।’’
তিনি বলেন, ‘‘এই বাংলা কৃষি, শিল্প, কাজের দিক থেকে অনেক এগিয়েছিল। এখন সেই বাংলা ধুঁকছে। আট হাজার স্কুলে তালা পড়তে চলেছে, এটা সুস্থ বাংলার লক্ষণ? মেয়েরা রক্তালপোঁতায় ভুগছে, কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না, যখন গোটা রাজ্যে প্রাকৃতিক বির্পযয় হয়েছিল তখন সরকার কারুর পাশে দাঁড়ায়নি। এখন চাষিদের থেকে গুদামে আলু রাখার জন্য টাকা চাইছে। এই বাংলাকে বাঁচাতে হবে।’’
তৃণমূল আমলে রাজ্যের বহু ছেলে মেয়ে লেখা পড়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে কাজের জন্য। সেই প্রসঙ্গ টেনে মীনাক্ষী বলেন, ‘‘বাইরের রাজ্যে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গুলো চলে যাচ্ছে কাজের জন্য। আইসিডিএস সেন্টা গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রশুতি মায়েরা খাবার পায় না। রাজ্যটা প্রতিদিন বারুদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সরকারি হাসপাতাল গুলোয় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। প্রতিদিন চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা থেকে মেয়েরা পাচার হচ্ছে। জল জঙ্গল জমি বিক্রি করে দিচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এরাজ্যে কারখানা ছিল সেখানে রাজ্যের ছেলে মেয়েরা কাজ করতো। এখন দেখা যাচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় ডিয়ার লটারি আর মদের দোকান। এই বাংলা কেউ চায়নি।’’
Minakhi Mukherjee
গুন্ডারাজ শেষ করবে বাংলা বাঁচাও যাত্রা : মীনাক্ষী
×
Comments :0