বেআইনিভাবে কয়লা পাচার করে যে শত শত কোটি টাকা তোলা হয় ভাগ যে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর কাছেও যায় সেটা নিজের মুখেই জানিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুধু নির্বিষ অভিযোগ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। কার থেকে কার মাধ্যমে টাকাটা অমিত শাহর কাছে পৌঁছায় সেটাও তিনি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী বিজেপি’র বড় ডাকাত জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে কয়লা পাচারের টাকা যায় ‘গদ্দার’ শুভেন্দুর কাছে। শুভেন্দু সেটা পৌঁছে দেয় অমিত শাহর কাছে। শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেবার পর থেকে মমতা সহ তৃণমূল নেতাদের কাছে গদ্দার হিসাবে পরিচিত। আগে শুভেন্দু যখন তৃণমূলে ছিল তখনও কয়লা পাচারের টাকা জায়গা মতো পৌঁছে দেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। তখন টাকা যেত কালীঘাটে। এখন দল বদলের পর যাচ্ছে অমিত শাহর কাছে। সম্ভবত এই কারণেই তৃণমূলের চোখে একদা শিশির পুত্র অধুনা অমিত শাহর পালিত পুত্র শুভেন্দু বড় মাপের গদ্দার।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন অমিত শাহ যে কয়লা পাচারের টাকা খায় তার প্রমাণ তার কাছে আছে। পেন ড্রাইভে সব তথ্য প্রমাণ ধরে রাখা আছে। সৌজন্যের খাতিরে এতদিন এই তথ্য গোপন রেখেছেন। যদি জানিয়ে দিতেন তাহলে নানা জটিলতা তৈরি হতো। দুনিয়া জুড়ে হইহই পড়ে যেত। ভাবা যায় একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য জনসভায় বলছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বেআইনি কয়লা পাচারের টাকা পকেটে পোরে। এমনকি এটাও বলছেন এই দুর্নীতি, টাকা লুটের তথ্য প্রমাণ পেন ড্রাইভের মধ্যে তাঁর কাছে মজুত আছে। এতদিন বিজেপি’র সৌজন্যের খাতিরে পেন ড্রাইভ প্রকাশ করে অমিত শাহ-কে বিপদে ফেলতে চাননি। এখন আইপ্যাকের দপ্তরে হানা দিয়ে বিজেপি যখন তৃণমূলের দুর্নীতি ফাঁস করতে চাইছে তখন তৃণমূলও ছেড়ে কথা বলবে না। অর্থাৎ বিজেপি যদি তৃণমূলের কয়লা চোর, গোরু চোর, বালি চোর, রেশন চোর, পাথর চোরদের ধরার চেষ্টা করে তাহলে তৃণমূল বিজেপি’র চোরদেরও হাড়ির খবর ফাঁস করে দেবে। আসলে ভোটের আগে মমতা ব্যানার্জি মোদী-শাহকে সমঝোতার বার্তা দিয়ে দিলেন। তুমি আমাদের দুর্নীতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করো না আমিও তোমাদের দুর্নীতি নিয়ে কিছু বলবো না। সত্যিই এক অসাধারণ সেটিং।
দুর্নীতির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থা যখন তল্লাশি চালায় তখন সেখানে সপারিষদ মুখ্যমন্ত্রী হাজির হয়ে দুর্নীতির যাবতীয় নথি প্রমাণ ছিনতাই করে নিয়ে আসেন। অথচ কেন্দ্রীয় সংস্থা কোনও বাধা দেয় না। আবার মুখ্যমন্ত্রী দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে কয়লা চুরির টাকা খাবার প্রমাণ দেখাচ্ছেন। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার নীরব। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে বাধা দিচ্ছে রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশ। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরপরও বলতে হবে দেশে আইনের শাসন সংবিধানের শাসন আছে। কেন আইন ভেঙে গুন্ডামি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে না? কেন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্ত হবে না? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দুর্নীতির প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কেন এতদিন তা গোপন করে দুর্নীতিতে সাহায্য করলেন তার বিচার হবে না?
Mamata and Amit Shah
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
×
Comments :0