BJP

ওপর তলার তৃণমূলের জন্য দরজা খোলা রাখছে বিজেপি

জাতীয় রাজ্য

আর কোন গোপনীয়তা নয়, ভালো খারাপ নয়। সব তৃণমূলের জন্য দরজা খুলতে চলেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর একাধিক তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়কদের জন্য তাদের দরজা খুলতে চলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য স্তরের এক নেতার কথায়, ‘বিজেপির নেতৃত্বে উন্নয়নের সাথে অনেকে যুক্ত হতে চাইছেন।’ উল্লেখ্য নির্বাচনের আগে শমীক ভট্টাচার্যদের মুখে শোনা গিয়েছিল যে তৃণমূল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। ৪ তারিখ বেলা ১২টার পর যারা বিজেপি হয়েছে তাদের জন্য দরজা বন্ধ। এরপরই ভালো তৃণমূলের তত্ত্ব শোনা যায় শমীকের মুখে। 
বিজেপি সূত্রে খবর চলতি অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল সহ একাধিক বিল সংসদে পাশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে সংখ্যার কারণে সংবিধান সংশোধনী পাশ করাতে পারেনি বিজেপি সরকার। ধাক্কা খায় মোদী, শাহের দম্ভ। চলতি অধিবেশনে বিল পাশ করানোর জন্য চেষ্টা করবে এনডিএ। সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজন সংখ্যা। দল ভাঙিয়ে সেই সংখ্যা অর্জন করতে চাইছে মোদী এবং শাহ।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই’এর সাথে যুক্ত হয়েছেন। এনডিএ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তারা। সম্প্রতি বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তারা বৈঠকও করেছেন। ছিলেন ঝাড়খন্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। এনসিপিআই সাংসদের দাবি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে চলছে অন্য জল্পনা। সূত্রের খবর এই ২০ জন সরাসরি বিজেপির পতাকা ধরতে পারেন।
একদিকে যখন বিজেপির ওপরতলা দরজা খুলে দিচ্ছে তৃণমূলের জন্য তখন নীচুতলায় তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। যাদবপুরের এক স্থানীয় বিজেপি কর্মীর কথায়, ‘লোকসভা ভোটে যার বিরুদ্ধে প্রচার করলাম এখন সে এনডিএ শরীক। বলতে গেলে সায়নী এখন আমাদের সাংসদ।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে লোক আমাদের ভোট দিয়েছে। সেখানে যদি ওদের নেতাদের দলে নেওয়া হয় তবে দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আমাদেরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।’
বাস্তবে নীচুতলায় বিজেপির লোক এখনও নেই। ক্ষমতায় এলেও তাদের সংগঠন কোন ভাবেই বিস্তার করেনি। আর তাই সংগঠন বাড়াতে এখন তৃণমূল ছেড়ে আসাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ‘বিশ্বের সর্ববৃহত’ রাজনৈতিক দলকে।

Comments :0

Login to leave a comment