‘সারথী’ প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে সাম্প্রদায়িক বিষে পড়ুয়া মন বিষানোর চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের আমলে চলা সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম বদল করে সারথী করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। উল্লেখ্য ২০১০ সালে তৎকালিন বামফ্রন্ট সরকার নবম শ্রেণির ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া শুরু করে। প্রাক্তন মুখ্যমন্রীরক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই প্রকল্প চালু করেন। পরে ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তারা দাবি করেন তারা এই সাইকেল দেওয়া শুরু করেছে। প্রকল্পের নাম দেয় সবুজ সাথী।
এদিন হাওড়ায় সারথী’র অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষে ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়াকে এই প্রকল্পের আওতায় সাইকেল দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আগের সরকার স্কলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করেছে। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের স্কলারশিপ দিত। সনাতনীদের দিত না। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের চোখে সব পড়ুয়া সমান। দিলে সবাইকে দেওয়া হবে না হলে কাউকে নয়।’ প্রশ্ন এখানেই মুখ্যমন্ত্রী মুখে বলছেন যে তার সরকারের চোখে সব পড়ুয়া সমান, তাহলে কেন তিনি সনাতনী এবং বিষয় সম্প্রদায় বলে পড়ুয়াদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে ফের ইতিহাস বিকৃত করতে শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘পড়ুয়াদের জানা দরকার এরাজ্যে জন্ম কবে। ১৯৪৭ সালে ২০ জুন শম্যাপ্রসাদ মুখার্জি এবং স্বামী প্রণবানন্দের জন্য আমরা মাতা ভারতীর কোলে আশ্রয় পেয়েছি। এই ইতিহাস পড়ূয়াদের জানাতে হবে।’
উল্লেখ্য রাজ্যে ক্ষমতায় এসে এবার ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করেছে বিজেপি সরকার। ইতিহাসবিদদের একাংশের কথায় ২০ জুন দিনটিকে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। ১৯৪৭ সালে ওই দিন বাংলার বিধানসভায় বাংলাভাগের প্রস্তাবে সিলমোহর পড়েছিল। যা আসলে বাংলার জন্য ক্ষতি ডেকে এনেছে।
১৯৪৭’র ৩ জুনই ব্রিটিশ শাসন দেশভাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ফলে বাংলা ভাগ অবধারিত। ২০ জুন তা প্রাদেশিক আইনসভায় পাশ করানো হয়। ১৫ আগস্ট তা কার্যকর করা হয়।
কিন্তু ১৫ আগস্ট আমাদের রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, পুরুলিয়া ছিল না। এখন যে বাংলার মানচিত্র আমরা দেখতে পাই তা সম্পূর্ণ হয় ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর।
মঙ্গলবার সারথী প্রকল্পের বিষয় বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণি থেকে পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন এবার থেকে স্কুল তাদের নির্দিষ্ট পোশাক এবং লোগো ঠিক করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কলকাতার মতো হাওড়াতেও ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে-মিল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
করোনা অতিমারির সময় থেকে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় ট্যাব কেনার জন্য। শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘আমরা দরকার হলে টাকা বাড়াবো, শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে এমন জিনিস দেবো। কিন্তু মোবাইল দেবো না। মোবাইল ক্ষতি করছে।’
Suvendu Adhikari
সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িককতার বিষ পড়ুয়া মননে ছড়ানোর চেষ্টা মুখ্যমন্ত্রীর
×
Comments :0