Noida Worker's Struggle CITU

বন্দি ৪০০ শ্রমিক, বিজেপি’র দমন, কাল দেশজুড়ে প্রতিবাদ সিআইটিইউ’র

জাতীয়

উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে জেলা শাসকের দপ্তরে এলামরাম করিম, সুদীপ দত্ত সহ সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ।

জেলে বন্দি প্রায় ৪০০ শ্রমিক। তার মধ্যে রয়েছেন নয়ডার সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ। মারাত্মক পুলিশী নির্যাতনের শিকার মহিলারাও। প্রতিবাদে, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, দেশজুড়ে সংহতি কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে সিআইটিইউ।
বুধবার সিআইটিইউ প্রতিনিধিদল উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে জেলা শাসকের দপ্তরে গিয়ে জেলবন্দি শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিজেপি সরকারের নিষ্ঠুর দমনের নীতি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। 
নয়ডা থেকে দিল্লিকে ঘিরে জাতীয় রাজধানী সংলগ্ন অঞ্চ বা এনসিআর’র একের পর এক শিল্পাঞ্চল ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে। যার মূলে রয়েছে অত্যন্ত কম মজুরিতে দিনের পর দিন স্থায়ী কাজে বহাল রেখে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর নীতি। 
উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থানে চরম নিপীড়ন চালিয়ে পুলিশি দমনে আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়ার নীতিতে চলছে একের পর এক বিজেপি সরকার। আর সেই বিজেপি’র নেতারা পশ্চিমবঙ্গে ‘ভয় নয় ভরসা‘ স্লোগান দিচ্ছেন ভোটের প্রচারে। 
সিআইটিইউ’র প্রতিনিধিদলে এদিন ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এলামরাম করিম, সর্বভারতীয় সভাপতি সুদীপ দত্ত সহ নেতৃবৃন্দ। 
সিআইটিইউ বলেছে, উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানায় বিজেপি সরকার শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে নেমেছে। কর্পোরেট স্বার্থকে রক্ষা করতে শ্রমজীবীর অধিকারকে কেড়ে নিতে চাইছে। শ্রমিক আন্দোলনের ওপর সরকারি দমনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে সারা ভারত কৃষক সভাও। 
সিআইটিইউ বলেছে, গত ৯ এপ্রিল থেকে নয়ডায় অসন্তোষ শুরু হয়, দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। কেবল নয়ডাতেই রাস্তায় নামেন ৪০-৫০ হাজার শ্রমিক। ৬-৮টি বড় ক্লাস্টারে ১৫টি শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারাণ ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে আন্দোলনে। ধর্মঘটেও প্রধান দাবি ছিল অধিকার কেড়ে নেওয়া শ্রম কোড বাতিলের। উত্তর প্রদেশ সরকারকে বাধ্য হয়ে মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা করতে হয়েছিল। কিন্তু তা লোক দেখানো। মাসে অন্তত ২৬ হাজার টাকা মজুরির দাবি কেবল দাবিই নয়, একটি বাস্তব প্রয়োজনীয়তা।
সিআইটিইউ বলেছে, ইরান যুদ্ধের সময়ে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি, নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি অবস্থা আরও সঙ্গিন করে তুলেছে। দিনের পর দিন অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়মিত কাজ করানো হচ্ছে মাসে ১০-১১ হাজার টাকা মজুরিতে। নেই ওভারটাইম, নেই সামাজিক সুরক্ষা। কাজ করতে হয় দিনে ১২-১৩ ঘন্টা।  
সিআইটিইউ বলেছে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে থাকবে সংগঠন। এই লড়াই কেবল মজুরির লড়াই নয়। সরাসরি শ্রেণি সংঘাত।

Comments :0

Login to leave a comment