CPI(M) Protest

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ধানের চারা পুঁতে প্রতীকি প্রতিবাদ স্বরূপনগরে

জেলা

হয় রাস্তা সংস্কার করুক, নয়তো পাট্টা দিক। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গরীব মানুষ চাষ করে দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করতে পারবে। রুট পারমিট অনুযায়ী আগের মতো নবাদকাটি থেকে বারাসত পর্যন্ত বাস চলুক। কৈজুরী, দোবিলা, খলসি, নবাদকাটি, আমুদিয়া, চিতারু, বালতি, গোয়ালবাথান, বয়ারঘাটা, মল্লিকপুর, নিত্যানন্দকাটি গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষের রোজকার এই নরক যন্তণা আর সহ্য হয় না যে। এরূপ দাবিতে রবিবার বিথারী ফুটবল মাঠ থেকে নবাদকাটি ৭কিমি বেহাল রাস্তায় প্রতীকি ধানের চারা পুঁতে প্রতিবাদে সামিল হয় বহু সাধারণ মানুষ। সেই সাথে বিথারী ফুটবল মাঠ সংলগ্ন স্থানে সিপিআই(এম) স্বরূপনগর -১ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে অবস্থান বিক্ষোভ সভা হয়। বক্তব্য রাখেন পার্টি নেতা হামালউদ্দিন আহমেদ, রকিব শাহজি, সফিকুল সরদার, আনসার সরদার সহ অন্যান্য। সভাপতিত্ব করেন দীনেশ মণ্ডল। বিক্ষোভ সভা চলাকালীন পার্টি নেতা স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি হামালউদ্দিন আহমেদ ও বালতি নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম প্রধান সুজিত মণ্ডল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সুনির্দিষ্ট ৩টি দাবিতে এই অবস্থান বিক্ষোভ সভা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সোনাই নদী ছিল যাতায়াতের একমাত্র পথ। নৌকায় চেপে তেতুলিয়া হয়ে সড়ক পথে বসিরহাট, বারাসত যেতে হতো। যদিও তা ছয় মাসের জন্য। বাকি ছয় মাস নবাদকাটি বিথারী ফুটবল মাঠ পর্যন্ত দীর্ঘ এই রাস্তা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হতো। ১৯৮৩সালে ঝামা ব্যাটস পরবর্তী ২০০৪ প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনায় পিচের রাস্তা তৈরি হয়। মাঝখানে ১৯৯৩ সালে উত্তর ২৪পরগনা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি নন্দদুলাল ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে বালতি ব্রিজ তৈরি করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে আর টি ও বোর্ডের তৎকালীন প্রতিনিধি সিআইটিইউ নেতা সুভাষ মুখার্জির সহযোগিতায় নবাদকাটি থেকে বারাসত ডি এন ৩৫ বাসরুট চালু হয়। এছাড়া একাধিক বাসরুট চালু হয়। ৮৪নং বাস রুটের পরিবর্তিত ডিএন ১৩, ডিএন ৩৮ চালু থাকলেও বাকি রুটের বাস ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যায় তৃণমূলের আমলে। আমাদের দাবি বিথারী ফুটবল মাঠ থেকে নবাতকাটি পর্যন্ত বেহাল রাস্তাটি সংস্কার করে পূর্বের মতো বাস চালু করতে হবে। রুট পারমিট অনুযায়ী ডি এন-৩৫ বাসরুটটি নবাতকাটি থেকে বারাসত পর্যন্ত চলাচল করবে। দীর্ঘদিন ধরে বালতি ব্রিজ খারাপের অজুহাতে বাসটি বালতি থেকে চলতো। বর্তমানে তা ৭কিমি এগিয়ে এসে বিথারী ফুটবল মাঠ থেকে বারাসত পর্যন্ত চলছে। ফলে সমগ্র বালতি নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বালতি ব্রিজ অবিলম্বে সংস্কার করতে হবে। বিথারী থেকে নবাতকাটি পর্যন্ত রাস্তাটি পি ডব্লিউ ডির রাস্তা করতে হবে। রবিবার সকাল ১০টা থেকে অবস্থান শুরু। দীর্ঘক্ষণ চলার পর পুলিশি আশ্বাসে অবস্থান উঠে যায় দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে।
সীমান্ত এলাকা কৈজুরীর বসত বাড়ি থেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন স্বরূপনগরের বিধায়ক তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি বীনা মণ্ডল। এখানকার ভূমিপুত্র নারায়ণ গোস্বামী উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের দুই বারের পূর্তের কর্মাধ্যক্ষ বর্তমানে সভাধিপতি। তথাপি দীর্ঘ ১৫ বছরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। যদিও ব্যক্তি স্বার্থের কথা ভেবে বীনা মণ্ডল অন্য একটি রাস্তা কৈজুরী থেকে শায়েস্তানগর এবং শায়েস্তানগর থেকে কাটিয়াহাট পর্যন্ত দুই ধাপে রাস্তা সংস্কার করে যাতায়াত করছেন। অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে সংস্কার না হয়ে দীর্ঘ সময় বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে নবাদকাটি থেকে বিথারী ফুটবল মাঠ পর্যন্ত রাস্তাটি। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের এবং লোকসানে চলা ডি এন ৩৫ রুটের বাসচালক, কন্ডাক্টর ও বাস মালিকদের দাবি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার করে আমাদের রেহাই দিন।

Comments :0

Login to leave a comment