Bangla Bachao Yatra

বাঁকুড়ার মেজিয়া বাজার এলাকায় বাংলা বাঁচাও মিছিল সিপিআই(এম)'র

জেলা

রবিবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় সিপিআই(এম)'র ডাকে বাংলা বাঁচাও মিছিল। ছবি: মধুসূদন চ্যাটার্জি।

নদী ভাঙ্গনে জমি হারা হচ্ছেন কৃষক। কাজ হারাচ্ছেন খেতমজুর। চলছে বেআইনী বালির রমরমা ব্যবসা। মেজিয়ার একটা বিস্তৃর্ণ এলাকার মাটির নিচে থাকা কয়লা নিঃশেষ করে নিয়ে গেছে মাফিয়ারা। মেজিয়ার বুকে যে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছিল আজ বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা বন্ধ। কাজ হারিয়েছেন শ্রমিক। এই প্রতিটি ঘটনার পেছনেই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ পর্যন্ত কয়লার চোরাকারবারে প্রান হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। কোটি কোটি টাকার কয়লা লুট হয়েছে তৃণমূল ও বি জে পি’র মদতে। এখন চলছে বালি। মেজিয়ার মানুষের হাতে কাজ নেই। এই মেজিয়া কি মানুষ দেখতে চান? চান না। রবিবার সেই বার্তায় ছড়িয়ে দেওয়া হল মেজিয়ার বুকে। এদিন সিপিআই(এম)'র ডাকে মেজিয়াতে বাংলা বাঁচাও মিছিল সংগঠিত হয়। 
বাঁকুড়া জেলা তথা রাজ্যের মানচিত্রে মেজিয়া একটা শিল্পাঞ্চল হিসাবে গড়ে উঠেছিল বামফ্রন্টের জমানায়। এখানকার মানুষ কাজ পেয়েছিলেন। মানুষের বহুদিনের দাবী ছিল দামোদরের ওপাড়ে আসানসোল, রানীগঞ্জে শিল্প হলে কেন মেজিয়াতে হবেনা। তার জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন মেজিয়ার মানুষ। তাকেই মর্যাদা দেয় বাম সরকার। গড়ে উঠে একাধিক শিল্প। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর বেশ কিছু শিল্প বন্ধ হয়ে গেল। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের কাটমানি নেওয়া পাশাপাশি অর্থনৈতিক ধসের কারনেই এই ঘটনা ঘটে। কাজ হারান বহু মানুষ। পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে মানুষকে কাজ না দিয়ে কিছু মানুষকে বেআইনীভাবে কয়লা উত্তোলন ও পাচারে প্রলুব্ধ করা হয়। মারা যান বহু মানুষ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, ইডি তদন্ত শুরু করলে এই কারবার বন্ধ হয়েছে। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার মেজিয়ার হয়ে গেছে। এবার চলছে দামোদরের বুক চিরে বালি তোলা। মানুষের অভিযোগ সরাসরি এই টাকা কালিঘাটে চলে যায়। চোখের সামনে মেজিয়ার মানুষ এই দুর্নীতি দেখছেন। মেজিয়ার থেকে একটা বড় অংশের যুবক বাইরে পরিযায়ি শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে চলে যাচ্ছে। আশংকায় থাকছেন পরিবারের লোকজন। সারা বাংলার সঙ্গে মেজিয়ার মানুষও এই অবস্থার পরিবর্তন চাইছেন। 
রবিবার এই মিছিলে বহু মানুষ যোগ দেন। মিছিল মেজিয়া বাজার এলাকায় ঘোরে। পরে এক পথসভাব বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম)'র মেজিয়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক শেখ ইলিয়াস, সুজয় চৌধুরী সহ নেতৃবৃন্দ।  
 

Comments :0

Login to leave a comment