Siliguri Ashok Bhattacharya

'সংবিধান বিপন্ন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যয় করে মন্দির তৈরি,লজ্জাজনক', শিলিগুড়িতে অশোক ভট্টাচার্য

রাজ্য জেলা

ছবি- সাংবাদিক সম্মেলনে অশোক ভট্টাচার্য

মুখে মুখে সংবিধানের বিপন্নতার কথা বললেও, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একের পর এক অসংবিধানিক ও অনৈতিক কাজ করে চলেছেন। রবিবার দার্জিলিঙ'র অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রাক্তন শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী ও শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য এই অভিযোগ করলেন। প্রসঙ্গত শনিবার জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন আমাদের দেশের সংবিধান বিপন্ন হয়ে গেছে সংবিধানকে বাঁচাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে এদিন অশোক ভট্টাচার্য বলেন, দেশের সংবিধান যে বিপন্ন সেটা সত্য। কারণ মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটে রাজনীতি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু কোনভাবেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করে মন্দির তৈরি করে ভোটের রাজনীতি করতে পারেন না। সে কথা আমি নই, সংবিধানের ২৭ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। তাই সংবিধানের বিপন্নতা মুখ্যমন্ত্রীর কাজের মধ্যে দিয়েও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভারতবসের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব ধর্মের সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে সরকারি উদ্যোগে গত শুক্রবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেছেন। যে কাজ একেবারেই অনৈতিক। মন্দির তৈরীর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু মন্দির কখনো রাষ্ট্রের উদ্যোগে করা যায় না। শিল্প কারখানা নয়, মন্দির গড়েই কর্মসংস্থান হতে পারাটা অসম্ভব। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাজ পরিষেবা দেওয়া। পরিকাঠামো তৈরী করা। কিন্তু বর্তমান রাজ্যের সরকার কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা, পরিকাঠামো এগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে মন্দির তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই একই পথের পথিক। নির্বাচনী রাজনীতি করছে। প্রচার করা হচ্ছে মহাকাল মন্দির হলে পর্যটনের উন্নতি ঘটবে। মন্দির হতেই পারে। তবে সংবিধানকে মান্যতা দিতে হবে। তাই মন্দির মসজিদ কখনও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হতে পারে না। 
ভট্টাচার্য বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ কর্মসংস্থান চায়। উন্নয়নের সাথে সাথে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়তে ড্রাই পোর্ট, টি পার্ক, ফুড পার্ক সহ নানা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিল। এই সময়ে উত্তরবঙ্গে কর্মসংস্থান নেই। বর্তমান সময়ে সরকারি অফিস গুলিতে অবসরপ্রাপ্তদের নিয়োগ করা হচ্ছে। পুরো পুলিশ ব্যবস্থাটা চলছে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে। হাজার হাজার পদ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে নিয়োগ নেই। উত্তরবঙ্গের মানুষ শিল্প কারখানা চায়,কর্মসংস্থান চায়। যা কখনোই মন্দিরের বিকল্প হতে পারে না। যে জমিতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী সেই জমিটি ছিল শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। আমি এসজেডিএ—র চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ওই জমিতে তথ্য প্রযুক্তি পার্ক হওয়ার কথা ছিলো। শিল্প থেকে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কর্মসংস্থানের থেকে মন্দির কখনই বড় হতে পারে না। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এক টাকার বিনিময়ে জমিটি দিয়ে দিলেন একটি ট্রাস্ট কে। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবার রাজ্যের  চিফ সেক্রেটারি। মন্দির নির্মাণ করবে সরকারি সংস্থা হিডকো। মন্দির নির্মাণের পুরো কাজটাই হচ্ছে সংবিধানকে অমান্য করে রাষ্ট্রীয় কোষাগরের অর্থ ব্যয় করে। যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।

Comments :0

Login to leave a comment