Farm Laborer Commits Suicide

ঋণের চাপে আত্মঘাতী মেমারির খেতমজুর

রাজ্য জেলা

গ্রামে কাজ নেই, দীর্ঘদিন ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, সংসার চালাতে না পেরে অভাবের যন্ত্রণায় মাঠেই বিষ খেলেন এক খেতমজুর। মেমারি থানার দেউলিয়া গ্রামে কীটনাশক খেয়ে যে প্রৌঢ় আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর  নাম নেপাল ক্ষেত্রপাল(৫৫)। সোমবার দুপুরে জমিতে গিয়ে তিনি কীটনাশক খান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। কাজ নেই গ্রামে, ঋণের চাপ তার থেকেই সাংসারিক অশান্তির কারণে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
প্রতিবেশী দেউলে গ্রামের পান্ডব ক্ষেত্রপাল বলেছেন, গ্রামে কাজ নেই, দারিদ্র এখানকার মানুষকে চরম সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ১০০ দিনের কাজ তৃণমূলের সময় থেকে বন্ধ। এখানকার মানুষ যাঁরা অনেক আশা নিয়ে সরকার পরিবর্তন করে ডবল ইঞ্জিন সরকার এনেছিল তাঁরা বলছেন কোথায় ১২৫ দিনের কাজ? কোথায় অন্নপূর্ণা ভাতা ৩০০০ টাকা? সবই জুমলা বাজি, মানুষ আক্ষেপ করছেন ঠগীদের কথা বিশ্বাস করে। আত্মঘাতী খেতমজুরের স্ত্রী পূর্ণিমা ক্ষেত্রপাল অন্নপূর্ণা যোজনায় ভাতা পায়না। এই পরিবারের যে মাইক্রোফিনান্সের ঋণ ছিল তা সময় মতো শোধ করতে না পারার জন্য নাকি সুদে আসলে বেড়েছে অনেকটাই এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। 
এখানকার বেশিরভাগ খেতমজুরের মাইক্রোফিনান্সের ঋণ আছে। সেই ঋণের চাপেই বছরে দু’বার অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হয়। গ্রামে এখন কাজ একেবারে কমে গেছে বর্ষার চাষে কয়েকদিন চাষ তারপর কাজ নেই শুধুই হাহাকার। আত্মঘাতী খেতমজুরের দুই ছেলে ও স্ত্রী আছে। কার্যত অকাল খেতমজুরের মৃত্যুতে গ্রামের গরিব পাড়ায় খেতমজুরদের মন ভারাক্রান্ত। 

Comments :0

Login to leave a comment