Murshidabad Journalists Attacked

মুর্শিদাবাদে হামলার নিন্দায় প্রেস ক্লাব

রাজ্য জেলা কলকাতা

 মুর্শিদাবাদে পুলিশের সামনেই আক্রান্ত হলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। চলল দলবদ্ধ পিটুনি। দাঁড়িয়ে দেখল পুতুল পুলিশ। 
ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা এবং ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই ১২নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল। এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ মহেশপুর পৌঁছান জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি ও চিত্রসাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতো। রাস্তায় নামতেই একাংশের মানুষ তাঁদের তাড়া করতে থাকে। শুরু হয় এলোপাথাড়ি মার, গালিগালাজ। প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন দু’জনেই। তাঁদের পিছনে প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করা হয়। তারপর রাস্তায় ফেলে মারধর শুরু হয়। চলে কিল, চড়, ঘুষি। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন।  
স্থানীয় বাসিন্দা আবু জার আলি দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করেন। তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি বলছেন,“পিছনে ৫০০-১হাজার লোক পিছনে তাড়া করেছে। আমি তাদের ঠেকাতে ঠেকাতে ১০০ মিটার চলে আসি। তারপর লাথি মেরে ফেলে দেয়। ওঠার পর আবার লাথি মেরে ফেলে দেয় সাংবাদিক-ম্যাডামকে। আমি ওঁর হাত ধরে দৌড়াতে থাকি। টোটোয় চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়েও মারধর করা হয়। লাথি, চুল ধরে টানাটানি করে। একসময় মনে হচ্ছিল বাঁচাতে পারব না। আমাকেও মারধর করা হয়।’’
আহত দু’জনকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসা করা হয়। এরপর বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দু’জনকে। সেখানেই চিকিৎসা চলছে। হয়েছে সিটি স্ক্যান।  
ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে প্রেস ক্লাব, কলকাতা। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “কর্তব্যরত সাংবাদিকের উপর এই ধরনের আঘাত তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং অপরাধ। এই ঘটনায় আমরা খুবই ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন। আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসনকে।” প্রতিবাদে সরব হয়েছে মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব বিশ্বাস বলেছেন, “এই ঘটনা  অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনাকে ধিক্কার জানাই। ধিক্কার জানাই পুলিশ প্রশাসনকেও, যাদের উপস্থিতি এইসব ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের খুঁজে বের করুক পুলিশ প্রশাসন। দেশের আইন ও সংবিধান অনুসারে তাঁদের  উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।” 
 

Comments :0

Login to leave a comment