protest

হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ, ডেপুটেশন

জেলা

পুর্নবাসন ছাড়া রেলের অব্যবহৃত জমিতে বসবাসকারী বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়ে শিলিগুড়ি ৫নম্বর বোরো অফিসের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান সভা ও ডেপুটেশন কর্মসূচি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি ডাবগ্রাম লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে এই অবস্থান বিক্ষোভ হয়। কর্মসূচিকে সামনে রেখে পায়েল সিনেমা হলের সামনে ইসকন মোড় থেকে একটি বড় মিছিল শুরু হয়ে এলাকার নানা পথ পরিক্রমা করে ৫ নম্বর বোরো অফিসের সামনে এসে শেষ হয়। স্মারকলিপিতে দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে বস্তিবাসী মানুষদের পাট্টা দেওয়া, বিভিন্ন শংসাপত্র প্রদানের জন্য গরীব মানুষদের হয়রানি করা বন্ধ করা, অন্নপূর্না যোজনা সহ সমস্ত প্রকল্পে গরীব মানুষদের যুক্ত করে নিয়মিত ভাতা দেওয়া, পৌর পরিষেবার হাল ফেরাতে অবিলম্বে পৌর কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা, বেহাল রাস্তাঘাটের সংষ্কার এবং বস্তিবাসী মানুষদের স্বার্থে সুষ্ঠু নিকাশী ব্যবস্থা গড়ে তোলা ইত্যাদি। 
এদিনের অবস্থান বিক্ষোভ সভায় সভাপতিত্ব করেন গনেশ ঘোষ। বাসস্থান, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রশ্নে বস্তিবাসীদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে অবস্থান বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের দার্জিলিঙ জেলা সভাপতি দিলীপ সিং, সম্পাদক কাজল পাল, পুলক সেনগুপ্ত সহ অন্যান্যরা। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসন পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে সময়ে পৌর পরিষেবার হাল একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিগত তৃণমূলী বোর্ডের সময় থেকেই শহরবাসী তথা বস্তিবাসীরা সঠিক পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নাগরিক পরিষেবা ক্রমশই দূর্বল হয়ে পড়ছে। গরীব বস্তিবাসী মানুষদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট সহ নানা শংসাপত্র পাবার ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের চক্কর কাটতে হচ্ছে দিনের পর দিন। গোটা শহরের পাশাপাশি বস্তিগুলোতে উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ। টেন্ডার হয়ে থাকা কাজগুলিও বন্ধ করে রেখেছে প্রশাসক পরিচালিত পৌর বোর্ড। নিকাশি ব্যবস্থারও বেহাল অবস্থা। সমস্ত কাজই প্রায় বন্ধ। নিকাশি ব্যবস্থার সংষ্কার না হওয়ায় বর্ষায় চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বস্তিবাসীদের। আবাস যোজনা, অন্নপূর্না সহ সমস্ত প্রকল্পের টাকা পাচ্ছে না। শহর জুড়ে বিশেষ করে বস্তি এলাকায় পানীয় জলসঙ্কট তীব্র। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘ বছর ধরে রেলের জমিতে বসবাসকারী হকার বস্তিবাসীরা উচ্ছেদের জন্য নোটিশ পেয়ে হাজিরার কাজ বাদ দিয়ে শুনানির জন্য ছুটছেন। হাজিরা না পেলে গরীব মানুষ খাবে কি? এভাবে চলতে পারে না। রাজ্যের সরকার কর্পোরেটদের স্বার্থে কাজ করছে। কিন্তু পুর্নবাসন ছাড়া কোনরকম উচ্ছেদ করতে দেব না। গরীবের হয়রানি বন্ধে ধারাবাহিকভাবে মানুষের স্বার্থে আন্দোলন চলবে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে বস্তিবাসী হকারদের উচ্ছেদ করা হলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির নেতৃত্বে বৃহত্তম আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
সভা চলাকালীন প্রতিনিধিদল বোরো অফিসের ভেতরে গিয়ে ছয় দফা দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি ৫নম্বর বোরো অফিসারের হাতে তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজেশ ছেত্রী, সুরেন্দর শর্মা, রঞ্জিত রায়, প্রিয়া দে, প্রজাপতি দাস, ডায়মন্ড ছেত্রী অবিনাশ রায়, রামসকল সাহানি প্রমুখ। বোরো অফিসার স্মারকলিপি গ্রহন করে দাবি বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment