বিক্ষোভের মাত্রা এবং বলপ্রয়োগের ভারসাম্যে গুরুতর গরমিল ছিল দিল্লিতে। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় এই ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ ওয়েবসাইট সূত্রের উল্লেখ করে জানিয়েছে যে র্যাফের ইনস্পেকটর জেনারেল সীমা ধুন্ডিয়া বিশেষ বৈঠক করেছেন। নির্দেশিকাও জারি করেছেন তিনি।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন হাজার হাজার ছাত্র-যুব। সেদিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েচিল র্যাফও। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে সারা দেশে। কারণ ১৯৯২ সালে আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএপ’র অধীন এই বিশেষ বাহিনীকে তৈরি করা হয়েছিল মুখ্যত দাঙ্গা মোকাবিলায়। গুরুতর জন বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে এমন ক্ষেত্রে এই বাহিনীকে মোতায়েন করার কথা।
কিন্তু দিল্লির বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। অথচ বাহিনী ব্যবহার করেছিল পেলেট গান, ইলেকট্রিক শক ব্যাটনের মতো সরঞ্জাম। পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের মুখে দিল্লির বিজেপি সরকার।
সূত্রের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে সীমা ধুন্ডিয়া বাহিনী মোতায়েন প্রক্রিয়াতেও প্রশ্ন তুলেছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছিল যে কোন অংশকে কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে তার নির্দিষ্ট তথ্য বাহিনীর কেন্দ্রে ছিল না।
জানা গিয়েছে র্যাফ প্রধান নির্দেশিকায় বাহিনীর জওয়ানদর বলেছেন যে ঠিক যতটা প্রয়োজন বলপ্রয়োগ ততটাই করা উচিত। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনুযায়ী মাত্রা বুঝে সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত। থাকা উচিত ভারসাম্য, সংবেদনশীলতা।
জানা গিয়েছে যে দিল্লিতে ২০ জুলাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে র্যাফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। তার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরও রয়েছে। সেই রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে পেলেট বন্দুক ব্যবহার ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাহিনী।
অন্য রাজ্য থেকে আনা জওয়ানদের আপাতত দিল্লিতে গণ জমায়েত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে দিল্লি, আসাম বা মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতির ফারাক রয়েছে।
জানা গিয়েছে, অনুমতি ছাড়া বাহিনীর কারও হাতে ‘দাঙ্গা মোকাবিলার বন্দুক’, ইলেকট্রিক শক ব্যাটন বা ইলেকট্রিক শিল্ড তুলে দিতে বারণ করা হয়েছে।
DELHI Student Protest RAF Review
দিল্লিতে বাড়াবাড়ি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় মানল র্যাফ
×
Comments :0