মুনাফাখোর মাত্র ১ শতাংশ সব কিছুকে গিলে খেতে চায় তখন ৯৯ শতাংশকে জাত-ভাষা-ধর্মের মতো বিষয় নিয়ে ভাগ করে দেয়। আমরা বামপন্থীরা তাই সব অংশের শ্রমজীবীকে নিয়ে একজোটে লড়াইয়ের কথা বলছি।
শনিবার সারা ভারত কৃষকসভা জলপাইগুড়ি জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রও। বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতৃবৃন্দ। (দেখুন ভিডিও)
সেলিম বলেন, আমাদের দেশের সংস্কৃতি নানান ধারার মেলবন্ধনে তৈরি। তাই স্বাধীনতার সময় বলা হয়েছিল ‘বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’। আমাদের খাদ্য আলাদা, বুলি আলাদা, উপাসনা পদ্ধতি আলাদা, উপাসনাস্থল আলাদা তবু আমরা সবাই এক। এটিই বামপন্থীদের শিক্ষা।
সেলিম বলেন, নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্র হলো মানুষকে আলাদা আলাদা করে ভাগ করা হয়। কেবল ধর্মের নামে নয়, জীবনযাপনের অন্য সব দিক নিয়েও হয়। আমরা বলছি বিভাজনের বিরুদ্ধে থাকতে হবে সব শ্রমজীবীকে।
সেলিম বলেন, মুনাফার জন্য আদানি আম্বানিদের জন্য, তাদের দালাল বিজেপি মোদী অমিত শাহেরা একদিকে মুনাফার পাহাড় তৈরি করতে মদত দিচ্ছে। আরেকদিকে আমাদের নদী, খেত, কারখানা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিজেদের মুঠোয় নিতে চাইছে। ১ শতাংশ সব কিছুকে গিলে খেতে চায় তখন ৯৯ শতাংশকে জাত-ভাষা-ধর্মের মতো বিষয় নিয়ে ভাগ করে দেয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে তিনি বলেন, বিজেপি চাইছে গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে। আর যারা পালিয়ে বিদেশ চলে গিয়েছে তাদের জন্য বিশেষ বুথ করা হবে। গরিব, প্রান্তিক মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।
তিনি বলেন, রাজ্যে কখনও মহিলারা নিরাপত্তার এত অভাব বোধ করেননি। বাংলা গর্ব করত মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য। বারবার দেখছি মমতা ব্যানার্জি ধর্ষকদের পক্ষ নিলেন। এখন তো সর্বত্র, জয়গাঁও, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, ধুপগুড়িতে এমন দেখেছি। গোটা রাজ্যে ধর্ষণরাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন নারী নির্যাতনে সমান হওয়ার প্রতিযোগিতা করছে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, উত্তর প্রদেশের সঙ্গে।
পীযূষ মিশ্র সমাবেশে বলেছেন, কৃষককে সেই সার কিনতে বাধ্য করছে যাতে কর্পোরেটের মুনাফা বেশি হয়। যদি সারের দাম বাড়ে, বীজের দাম বাড়ে, ফসল সংগ্রহ যদি না হয় তা’হলে কৃষকের আয় বাড়ে নাকি। কৃষকের আয় যদি বেড়ে থাকে তা’হলে কৃষক পরিবারের ছেলেরা বলছে কেন যে তারা কৃষিকাজ করবে না।
তিনি বলেন, কৃষি জমি বাড়েনি কিন্তু ফলন বেড়েছিল বাংলায়। কারণ পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কৃষককে জমির, ফসলের অধিকার দিতে হবে। তাই এক ফসলি জমি তিন ফসলি হয়েছিল। ধূপগুড়িতে কৃষির ওপর নির্ভর করে বাজার গড়ে উঠেছিল।
সে সময়ে জলপাইগুড়িতে সেচের ব্যবস্থা তৈরিতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধির প্রকল্প প্রসঙ্গে বলেন তিনি। মিশ্র বলেন, সেচের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বীজগ্রাম তৈরি হয়েছিল। উদ্ভিদ স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। আজকে বীজগ্রাম নেই। উদ্ভিদ স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই।
Salim Jalpaiguri
মুনাফার কৌশলে মেহনতিকে ভাগাভাগির ছক রোখার ডাক সেলিমের

×
Comments :0