হিমঘ্নরাজ ভট্টাচার্য: নয়াদিল্লি
(ডিওয়াইএফআই সাধারণ সম্পাদক হিমঘ্নরাজ ভট্টাচার্য দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক। সোমবার সারা দিন নেতৃত্ব দিয়েছেন লড়াইয়ে। ‘গণশক্তি ডিজিটাল’-কে জানালেন তাঁর অভিজ্ঞতা)
সকাল থেকেই বৃষ্টিতে ভিজেছে দিল্লি। ভিজব আমরা সবাই, জানাই ছিল। হঠাৎ দেখলাম নাগরিকদের একাংশ নিজেরা রেনকোট নিয়ে চলে এসেছেন। ছাত্রছাত্রীদের বিলি করছেন রেনকোট।
সোমবার ছাত্র-যুব অংশের সংসদ চলোর সারাদিনে এমন সংহতির বহু নজির রইল। ঠিক উলটোদিকে ছিল চরম অনমনীয় সরকারের পীড়ন, দিল্লি পুলিশের দিনভর লাঠি-গ্যাস-রবার বুলেটও।
এই বিক্ষোভ অন্য অনেকগুলির থেকে ছিল আলাদা। বহু ছাত্রছাত্রী এসেছে যারা এই প্রথম কোনও দাবি নিয়ে রাস্তায় নামল। এই প্রথম নিজেদের দাবিতে জোট বেঁধে রাস্তায় হাঁটল।
আরেকদিকও রয়েছে ‘সংসদ চলো’ -র সারা দিনে। তা হলো দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক অমানবিকতা। লাঠি চালানো হয়েছে কোনও বিধি না মেনে। পরপর লাঠি বাড়ি পড়েছে প্রতিবাদীদের ওপর। মাথা ফেটেছে, শরীর থেকে রক্ত বেরচ্ছে, তবু লাঠি চালাচ্ছে পুলিশ।
ব্যবহার হয়েছে রবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস। কেবল সংসদের সামনের জাণগা বা যন্তর মন্তর নয়। পুরো দিল্লিকে কার্যক্ত বন্ধ করে রেখেছিল পুলিশ। দোকান বন্ধ করে রেখেছিল। যাতে জল আমরা কিনতে না পারি বলে রাখা হয়েছিল দোকানদারদের। ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। যোগাযোগ করারও সমস্যা চলছিল।
আবার অশোকা রোডে বাংলা সাহিব গুরদোয়ারার সামনে যখন লাঠি হাতে হিংস্র পুলিশ ছাত্রছাত্রীরা দৌড়ে ঢুকেছিল এই চৌহদ্দিতে। গুরুদোয়ারার সবাই বললেন, এখানে থাক এখন। আমরা আছি। বাইরে অপেক্ষা করছে পুলিশ, বেরলেই মারবে। ভেতরে প্রতিবাদী নবীনদের আগলে রাখছেন প্রবীণরা। তাঁরা জল দিয়েছেন, খেতে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, দিয়েছেন ভরসা।
এদিন জমায়েত হয়েছে সংসদ ভবনমুখী বিভিন্ন রাস্তায়। প্রতিটি জায়গায় থেকেছে বিশাল পুলিশি জমায়েত। আবার এক জায়গায় বিজেপি অনুগামীরা পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে আক্রমণ করেছে। প্রতিটি জায়গায় লক্ষ্যে স্থির থেকেছে প্রতিবাদীরা।
আমরা জানি কেবল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের ভয়াবহ শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ফেরাবে না। কিন্তু প্রতিবাদের কেন্দ্রে থেকেছে সেই দাবিই কারণ একের পর এক পরীক্ষায় বিপর্যয়ের পর ন্যূনতম কথা শুনতে রাজি নয় বিজেপি সরকার। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পর। যে রাজনৈতিক আবর্জনার কথা তিনি বলেছেন তা তো তৈরি করেছে বিজেপি সরকার। কাজ নেই, রোজগার নেই, রেগা বাতিল। তার ওপর একের পর এক পরীক্ষায় চরম বেনিয়ম, অব্যবস্থা। এই আন্দোলন দেখিয়েছে নিস্পৃত থেকে পার পাবে না সরকার।
মনে রাখা ভালো, শিক্ষার পাশাপাশি দলবদলের রাজনীতির প্রতিবাদও জানিয়েছে সিজেপি। এক দলের হয়ে জিতে দল বদলালে ২০ বছর ভোট লড়তে পারবে না, উঠেছে সে দাবি। আবার এসআইআর-এ বাদ সব বৈধ ভোটদাতার নাম তোলার দাবিও উঠেছে। দেশের ছাত্র এবং যুবরা এই সব নিয়েই নেমেছে আন্দোলনে।
আমরা জানি যে ‘সংসদ চলো‘-র এই একটি কর্মসূচিতেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে না। কেন না সঙ্কট থাকবে। আমরা জানি, আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী। কিন্তু বৃষ্টিভেজা দিনের লড়াই আর তার আগের প্রস্তুতি ভরসা জোগাবে টানা লড়াইয়ের রাস্তায়।
Comments :0