অরিজিৎ মণ্ডল: বক্রেশ্বর
‘শিল্প চাই-কাজ চাই, বামপথে বাংলা চাই‘। এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়েই ফের পথে নেমেছে ডিওয়াইএফআই। আজকের সময়ে স্লোগান উঠেছে বিভাজনের রাজনীতিকে রুখে দেওয়ারও।
প্রয়াত জননেতা জ্যোতি বসুর ১৭তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে রক্তদান শিবির ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ‘রক্ত দিয়ে তৈরি করা বক্রেশ্বরকে ফের উজ্জীবিত করতে রক্তদান‘ বলেছেন নেতৃবৃন্দ।
১৯৮৮ সালে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। বক্রেশ্বর, হলদিয়া বা সল্টলেকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স গড়ার কাজে ধারাবাহিক কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারকে। প্রকল্পের দাবিতে জনতাকে যুক্ত করার লড়াইয়ে অন্য অংশের সঙ্গে এগিয়ে এসেছিল সে সময়ের যুব আন্দোলন। রাজ্যের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে ও রাজ্যের ছাত্র-যুবদের প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে তিল তিল করে গড়ে উঠেছিল এই বক্রেশ্বর। ছাত্র যুবরা গোটা রাজ্য জুড়ে বক্রেশ্বরের জন্য রক্তদান করেছিলেন বার্তা ছড়িয়ে দিতে। বীরভূম জেলার বহু মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিলেন এই প্রকল্প চালু করার সময়।
ডিওয়াইএফআই’র প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক এবং সিপিআই(এম) নেতা রবীন দেব সে সময়ে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, সে সময়ে একদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদ আরেকদিকে শিল্পের জন্য কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। তিনি বলেছেন, সমাজের সব অংশ জুড়ে গিয়েছিলেন এই আন্দোলনে। সেই বিচারে এই লড়াই ছিল রাজ্যের সম্প্রীতি ও ঐক্য রক্ষারও প্রতীক।
আজকে যখন তৃণমূল এবং বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে, মানুষের রক্ত ঝরছে রাজ্যের ভেতরে-বাইরে। আজকের লড়াই সেই সম্প্রীতি ও ঐক্যের ঐতিহ্যকে রক্ষার।’’
১৯৭৭ সালে আসীন হওয়ার পর
রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি কমাতেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। ১৯৭৬ সালে রাজ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৩৬১ মেগাওয়াট। ১৯৯৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৭৭ মেগাওয়াট। গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছিল ৪৭ লক্ষ ৬৬ হাজার।
সেই পরিকল্পনা মাফিক কার্যক্রম এগুলোর ফলে রাজ্যের অন্যতম প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছে গোটা রাজ্যকে। কিন্তু প্রস্তাবিত ছটি ইউনিট চালু হওয়ার কথা থাকলেও বামফ্রন্ট সরকার ২০১১ সালে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর শেষ ১৫ বছরে ৬ নম্বর ইউনিট তৈরি করেনি তৃণমূল সরকার। ৬ নম্বর ইউনিটের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা থাকলেও রাজ্য সরকারের কোন সদিচ্ছা নেই। তাই ডিওয়াইএফআই এই দাবি তুলেছে।
এদিন কর্মসূচিতে ছবি আঁকেন শিল্পী মনীষ দেব।
Comments :0