‘বন্দেমাতরম‘ সংক্রান্ত মামলায় সলসিটর জেনারেলের ‘নকশালবাদী‘ মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানালেন বরিষ্ঠ আইন এস মুরলীধর।
‘বন্দেমাতরম’-র ছয়টি স্তবক গাওয়াকে বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করেছেন কর্নাটকের সঙ্গীতজ্ঞ টি এম কৃষ্ণা। তাঁর হয়ে সওয়াল করছিলেন আইনজীবী মুরলীধর।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং দুই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চে চলছিল শুনানি। সওয়ালে মুরলীধর বলেন, ১৯৮৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে। গান করতে না পারার জন্য কোনও শিশু বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যাতে না নেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
সওয়ালে বরিষ্ঠ আইনজীবী বলেন, তাড়াহুড়ো করে পাশ করানো হয়েছে ‘বন্দেমাতরম’ সংক্রান্ত আইন। অনেক দিকই দেখা হয়নি।
পালটা সওয়ালে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘নকশালবাদী‘ মনোভাব নিয়ে সরকার আইন করে না। সংবিধান অনুযায়ী আইন করা হয়।
আদালতেই তীব্র প্রতিবাদ জানান মুরলীধর। তিনি বলতে থাকেন, এই শুনানি সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। সলিসিটর জেনারেলকে মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জাতীয় গীত ‘বন্দেমাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত 'জনগণমন’-র সমমর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্য জানিয়ে সরকার সংশোধনী পাশ করে। কিন্তু ‘বন্দেমাতরম’-কে ঘিরে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে গড়ে ওঠা ঐকমত্যকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ছয়টি স্তবক গওয়া বাধ্যতামূলক করা রয়েছে। প্রথম দু’টি স্তবকের পর একাধিক স্তবকে হিন্দু দেবদেবীদের অর্চনা থাকায় স্বাধীনতা আন্দোলনের পর্বেই অংশটি বাদ রেখে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল জাতীয় কংগ্রেস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে পরামর্শ দিয়েছিলেন। ‘বন্দেমাতরম’-র ছয় স্তবককে দেশপ্রেমের মাপকাঠি বানাতে নেমেছে বিজেপি এবং আরএসএস।
কৃষ্ণা তাঁর মামলায় বলেছেন, যে স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবদেবীদের অর্চনা রয়েছে সেই অংশ গাইতে বাধ্য করা যায় না। জাতীয় মর্যাদা আইনের সংশ্লিষ্ট সংশোধনীর বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, সরকারি অনুষ্ঠানে এই ছয়টি স্তবক গাইতে বাধ্য করার জন্য সার্কুলার জারি করেছে।
সওয়ালে মুরলীধর বলেন, এই ধরনের বিতর্কে জাতীয় স্তরে সহমত গড়ার প্রয়াস থাকা দরকার। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়।
‘নকশাল‘ মন্তব্যে তীব্র আপত্তির পর সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমি বলছি তা সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে।
মুরলীধর ফের আদালতকে বলেন, সলিসিটর জেনারেল পাশ কাটাচ্ছেন। তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত। কেন এমন মন্তব্য করা হবে? একজন শীর্ষ আইন আধিকারিকের মুখে তা শোভা পায় না। কখনও কোনও আইন আধিকারিককে এমন মন্তব্য করতে শুনিনি।
Vande Mataram and Naxalite Remark Controvesy at SC
‘বন্দেমাতরম’ মামলায় মেহতার ‘নকশাল’ মন্তব্যে তোলপাড় সুপ্রিম কোর্টে
আইনজীবী এস মুরলীধর এজলাসেই জানিয়েছেন প্রতিবাদ।
×
Comments :0