প্রবল অন্তর্কলহ আর নিচুতলার কর্মীদের বিক্ষোভের চাপে পড়ে অবশেষে ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করতে বাধ্য হলো বিজেপি নেতৃত্ব। বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে সরিয়ে এই কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী হিসেবে ডালিম রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়ে গেল, জলপাইগুড়ি জেলায় পদ্ম শিবিরের ফাটল এখন আর আড়াল করার জায়গায় নেই।
দ্বিতীয় দফার তালিকায় কৌশিক রায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ময়নাগুড়িতে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। দলেরই একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়ে জেলা সভাপতিসহ একাধিক নেতাকে দলীয় কার্যালয়ে তালাবন্দি করে রাখে। চলে দফায় দফায় বিক্ষোভ। কর্মীদের দাবি ছিল একটাই— কৌশিক রায়কে মানা হবে না। সেই সময় জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ক্ষোভের আঁচ যে কমেনি, চতুর্থ দফার তালিকায় প্রার্থী বদলই তার প্রমাণ।
মজার বিষয় হলো, যাঁর বিরুদ্ধে কর্মীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিল, তাঁর জায়গায় যাঁকে আনা হয়েছে, সেই ডালিম রায়ও আদি বিজেপি নন। একদা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা ডালিম রায় পরবর্তীকালে রঙ বদলে বিজেপিতে যোগ দেন। শুধু ময়নাগুড়িই নয়, জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ও মালবাজার কেন্দ্রেও প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীদেরই প্রার্থী করেছে বিজেপি।
নিজেদের দলের পুরনো কর্মীদের ওপর ভরসা হারিয়ে এখন তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে বিজেপিকে।
ইতিমধ্যেই কৌশিক রায় প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে জনসংযোগ— কোনো কিছুই বাকি রাখেননি বিদায়ী বিধায়ক। কিন্তু হঠাৎ এই 'সরিয়ে দেওয়া'র ফলে তাঁর অনুগামীরা কতটা সক্রিয় থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টিকিট না পেয়ে কৌশিক গোষ্ঠী নির্বাচনের ময়দানে কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার।
বিজেপির এই ড্যামেজ কন্ট্রোল শেষ পর্যন্ত ভোটে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ময়নাগুড়ির রাজনৈতিক মহল।
Maynaguri BJP
ময়নাগুড়িতে প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীকেই প্রার্থী করলো বিজেপি
×
Comments :0