এক মহিলাকে গাড়িতে তুলে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ। রবিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের বেলিয়াবেড়া এলাকায়। অভযোগ যুগডিহার বাহারুনা জঙ্গলে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধী রয়েছেন নির্যাতিতা। হাসপাতাল সূত্রে খবর নির্যাতিতার দেহের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ রৌণক পান্ডা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। রবিবারের ঘটনাটি সামনে আসতেই তোলপাড় গোটা জেলা। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব প্রিংলা এদিন বলেন, ‘‘থানায় অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। দলবদ্ধ ধর্ষণ কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে।’’ গ্রেপ্তার হওয়া যুবক ২৭ বছর বয়সের রৌনক পান্ডে বেলিয়াবেড়া থানার যুগডিহা এলাকার বাসিন্দা। ধৃত যুবক ও তার বাবা আগে স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত ছিল। অভিযুক্ত এখন ভালো তৃণমূল শিবিরে মিশে গেছে বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা মহিলারন মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে নির্যাতিতার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। কীভাবে আগুন ধরানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ নির্যাতিতা অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর জঙ্গল থেকে বের হয়ে হেঁটে যুগডিহা মোড় এলাকায় আসেন। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়াররা তাঁকে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে অবস্থার অবনতি হলে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও ভাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আপাতত তিনি মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না। তার জেরে দ্রুত শারীরিক বস্থার অবনতি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ পাতালে কোনো বার্ন ইউনিট নেই। সেই কারণেই অগ্নিদগ্ধ ওই রোগীর চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেই পরিবারের দাবি।
নির্যাতিতা শুক্রবার হাসপাতালের বেডে শুয়ে জানালেন, ‘‘সেদিন ফেকো ঘাটের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ একটি চারচাকার গাড়ি এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। গাড়ির ভিতর তিরিশ-পঁচিশ- বছরের দু'জন ছিল। একজন আমাদের গ্রামের। অপরজন ছিল অপরিচিত। আমাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে জঙ্গলে নিয়ে যায় ওরা। সেখানেই আমাকে ধর্ষণ করা হয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরতে বুঝতে পারি আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কোনওরকমে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসি। পুলিশ দেখতে পেয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। আমাকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’’ তবে মহিলা বলতে পারেননি একজন যুবক নাকি দু'জন যুবক তাঁকে নির্যাতন করেছে। ধৃত রৌণককে জেরা করে পুলিশ বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইছে।
নির্যাতিতার মেয়ে বলেন, ‘‘বেলিয়াবেড়া থানা এলাকাতেই আমার শ্বশুরবাড়ি। রবিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সিভিক ভলান্টিয়াররা মা'কে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। মা'কে যারা এভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদেরও পোড়ানো হোক।’’
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ নির্যাতিতার স্বামী মারা গিয়েছেন। ভূবনেশ্বরে আয়ার কাজ করেন। কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছেন। এক ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। অন্য ছেলেটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় পড়শি জেলার এক হোমে থাকে।’’ অভিযুক্তকের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে এলাকার মানুষ।
Jhargram
ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ গোপীবল্লভপুরে
×
Comments :0