CITU Press Meet

‘জেল ভরো’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান শিলিগুড়ি কনভেনশনে

জেলা

নয়া শ্রমকোড বাতিল সহ একাধিক দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে শিলিগুড়িতে সর্বভারতীয় কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ, কৃষক সংগঠন ও বস্তি উন্নয়ন কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘জেল ভরো’ আন্দোলন কর্মসূচি হবে। শুক্রবার শিলিগুড়িতে সিআইটিইউ দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এখবর জানিয়ে বলেন, আগামী ১০আগস্ট দার্জিলিঙ জেলার সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় কিষান সভাসমূহ, খেতমজুর ও বস্তি সংগঠনগুলির ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে জেলার শ্রমিক, কৃষক, বস্তিবাসীরা যৌথভাবে সামিল হবেন কর্মসূচীতে। নয়া শ্রমকোড বাতিল, প্রি পেড স্মার্ট মিটার প্রকল্প বন্ধ করা, পুনর্বাসন ছাড়া কোন হকার উচ্ছেদ নয়, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য দেওয়া, মনরেগা প্রকল্পের অধীনে বছরে ২০০দিনের কাজ সুনিশ্চিত করা ইত্যাদি দাবিতে ওইদিন দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ সিআইটিইউ দপ্তরের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে আইন অমান্য ও জেল ভরো কর্মসূচী হবে। গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ন পথে আইন অমান্য আন্দোলন হবে। প্রশাসন বাধা দিলে, লড়াই বাঁধবে। ইতোমধ্যে জেলা জুড়ে প্রচারাভিয়ান শুরু হয়েছে। 
সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের দার্জিলিঙ জেলা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক গৌতম ঘোষ বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকারের সময়ে প্রথম আমরা আইন অমান্য আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছি। ইতোমধ্যেই শ্রমকোডের কুফল পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। জনবিরোধী শ্রমিক বিরোধী শ্রমকোড অবিলম্বে বাতিল করা আমাদের মুখ্য দাবি। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়কমূল্য আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্রয় ব্যবস্থার গ্যারান্টি দিতে হবে। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান তিনি। ভয়ঙ্কর বিদ্যুতের বিল আসতে শুরু করেছে গ্রাহকদের কাছে। স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করছে কর্পোরেটমুখী রাজ্যের সরকার। আন্দোলনের ফলে সাময়িকভাবে পিছু হটলেও ঘুরপথে স্মার্ট মিটার বসানোর চেষ্টা করছে সরকার। এই সময়ে শহরের বস্তি কলোনিবাসী উচ্ছেদের সমস্যার মধ্যে পড়েছে। শিলিগুড়ি জংশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত রেলের অব্যবহৃত জমিতে অসংখ্য মানুষের বসবাস। তারা উচ্ছেদের আশঙ্কায় ভুগছে। চা বাগানের জমি কার্যত লুট হচ্ছে। মিড ডে মিল, আশা স্বাস্থ্য কর্মীদের উপরেও আক্রমণ নামিয়ে এনেছে রাজ্যের সরকার। গরীব মানুষদের উচ্ছেদের আগে রেলকে প্রমান করতে হবে এই জমি রেলের। পুনর্বাসন ছাড়া একটি মানুষকেও উচ্ছেদ করা যাবে না আমাদের সুস্পষ্ট দাবি। সেই চেষ্টা হলে রাস্তার আন্দোলনের পাশাপাশি আইনী পথে লড়াই হবে। জানান, রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে হকার থেকে শুরু করে বস্তিবাসী, গ্রামাঞ্চলের ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ কৃষিজীবি মানুষ, চা বাগানের শ্রমিক সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রে অগনিত শ্রমজীবি মানুষ আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহন করবেন। সাংবাদিক বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন ঝরেন রায়, তিলক গুন, পার্থ ভৌমিক, তাপস গোস্বামী, অভিজিৎ মজুমদার, জয় লোধ, লক্ষ্মী মাহাতো প্রমুখ। 
১০ আগস্টের আইন অমান্য আন্দোলনকে সর্বাত্মক সফল করার এদিন বিকেলে আহ্বান জানিয়ে কনভেনশন হয়েছে। শিলিগুড়িতে হিলকার্ট রোডস্থিত সিআইটিইউ দপ্তরে কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন সিআইটিইউ দার্জিলিঙ জেলা সভাপতি মোহন পান্ডা। বক্তব্য রাখেন দার্জিলিঙ জেলার সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় কিষান সভাসমূহ, খেতমজুর ও বস্তি সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ।

Comments :0

Login to leave a comment